রাজধানী ডেস্ক
পবিত্র রমজান মাসে নগরবাসীর নিরাপদ সিয়াম পালন এবং শান্তিপূর্ণ ঈদুল ফিতর উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মধ্যরাতে টানা চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এলাকা থেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ডিএমপি মিডিয়া বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তেজগাঁও বিভাগের উদ্যোগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত একটানা চার ঘণ্টা এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং সদস্য, মাদককারবারি, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মোট ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে আদাবর থানা এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪১ জনকে আটক করা হয়। একই সময়ে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ পৃথক অভিযানে ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত মামলায় একজন, হত্যা মামলায় একজন, চাঁদাবাজির মামলায় চারজন এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত চারজন আসামি রয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন ধারায় ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি, বিভিন্ন স্পট চেকিং এবং সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়। বিশেষ করে রাতের সময়কে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধ, মাদক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ এবং চুরি-ছিনতাই রোধে এ অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, রমজান মাসে নগরজীবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ সময় ইফতার ও তারাবির নামাজকে কেন্দ্র করে মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং ঈদ সামনে রেখে বাজার-ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেন বাড়ে। ফলে অপরাধ প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা বিবেচনায় রেখে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এমন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। বিশেষ করে মধ্যরাতকে কেন্দ্র করে অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টার্গেটভিত্তিক অভিযান জোরদার করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা বজায় রাখতে তা সহায়ক হবে।