বাংলাদেশ ডেস্ক
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় অবস্থিত এন আলম গ্যাস পাম্পে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আহতদের খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার–০৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল–কে টেলিফোন করেছেন। বৃহস্পতিবার এ তথ্য সংসদ সদস্যের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়।
ফেসবুক পোস্টে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তাকে ফোন করে গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও আহতদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে খোঁজ নেন।
এর আগে কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে অবস্থিত এন আলম গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পরপরই স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন দগ্ধ ও আহত হন বলে জানা গেছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস পাম্পের একটি অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরূপণ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জননিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের স্থাপনায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি জোরদার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলেও পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর আগুনের প্রকৃত কারণ, দায়িত্ব ও ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।