অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন দাম বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্যের বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে স্বর্ণের দর সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে।
অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব মূলত ভোক্তা এবং জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের ওপর পড়বে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার মূল্যের ওঠানামা ও আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের প্রভাবও দাম বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করছে। স্বর্ণে এই ধরনের দর পরিবর্তন নিয়মিতভাবে বাজারে স্বচ্ছতা এবং সঠিক মূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।
এই নতুন দর কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান এবং বাজারে বিক্রি হচ্ছে নতুন নির্ধারিত মূল্যে। বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ে আরও সতর্ক হবেন। আরেক দিকে, সাধারণ ভোক্তারা ছোট পরিমাণে ক্রয় সীমিত রাখতে পারেন, যাতে বাজারে চাহিদা এবং সরবরাহের ভারসাম্য বজায় থাকে।
সাধারণভাবে, দেশের অর্থনীতিতে স্বর্ণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের মাধ্যম। তাই দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি গৃহস্থালি বাজেট, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত এবং সঞ্চয় প্রবণতাকেও প্রভাবিত করে। বাংলাদেশে স্বর্ণের বাজার মূলত স্থানীয় চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের ওঠানামা এবং সরকারের নীতি নির্ধারণের ওপর নির্ভরশীল।