ক্রিকেট ডেস্ক
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান আসরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের দীর্ঘ সময় ধরে অপ্রতিরোধ্য অবস্থার ধারা শেষ হয়েছে। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের ব্যবধানে হারের ফলে ভারত ‘গ্রুপ-১’-এর তিন নম্বরে অবস্থান করছে। এই পরাজয় ভারতের দীর্ঘদিনের অনবদ্য পারফরম্যান্সের ধারাকে ব্যাহত করেছে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়ের বিকল্প ছাড়া টুর্নামেন্টে টিকে থাকার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
ভারত ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে আইসিসি ইভেন্টে হারের মুখ দেখেনি। চলমান আসরের গ্রুপ পর্বে দলটি সবক’টি ম্যাচ জিতে সুপার এইটে পৌঁছেছিল। তবে সুপার এইটে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর ভারতের পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেছে। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে পৌঁছাতে আগামী দুই ম্যাচে শুধু জয়ই নয়, অন্যান্য ম্যাচের ফলাফলের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে ভারতকে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে চেন্নাইয়ের চিপকে ভারত জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে। জিম্বাবুয়ে এই আসরে শুরু থেকেই শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। চারটি গ্রুপ ম্যাচের মধ্যে কোনো ম্যাচে হেরে যায়নি দলটি এবং অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা দলের মতো প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছে।
ভারতীয় শিবিরের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অস্বস্তিকর। দলের টপ অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মা দীর্ঘদিন ধরে রান খরার সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া বিশ্বকাপের মাঝপথে পারিবারিক কারণে রিংকু সিং দল ছেড়ে চলে গেছেন। এই পরিস্থিতিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ ভারতীয় দলের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু ম্যাচের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষ যেই হোক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচই চাপের। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। যখন আপনি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তখন প্রতিটি ম্যাচই চাপের।”
জিম্বাবুয়ের দলও সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেছে। ফলে তাদেরও টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে জিততেই হবে। জিম্বাবুয়ের বোলিং বিভাগ এ আসরে শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের বোলাররা কার্যকরী বোলিং করেছে। দলের অলরাউন্ডার রায়ান বার্ল জানিয়েছেন, বোলিং বৈচিত্র্য ব্যবহার করে ভারতকে চাপে ফেলা সম্ভব হবে।
জিম্বাবুয়ের দল ব্লেসিং মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভাসের মতো দীর্ঘদেহী ফাস্ট বোলার এবং গ্রায়েম ক্রিমার (লেগ স্পিন), সিকান্দার রাজা (অফ স্পিন ও রহস্য স্পিন) এবং ওয়েলিংটন মাসাকাদজার (বাঁহাতি ফিঙ্গার স্পিন) মতো স্পিনারসহ বিভিন্ন বোলিং অপশন ব্যবহার করতে পারবে। চেন্নাইয়ের কালো মাটির উইকেটে এই সমস্ত বিকল্প তাদের টিম ম্যানেজমেন্ট বিবেচনায় রাখছে।
ভারতের নেট রানরেট দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর -৩.৮০ এ নেমে গেছে। পরশু জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০৭ রানের জয় ভারতের পরিস্থিতিকে আরও কোণঠাসা করেছে। জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি জয় সত্ত্বেও ভারতকে অন্যান্য ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
পরবর্তী জিম্বাবুয়ে ম্যাচ ভারতের জন্য কেবল জয় নয়, পুরো সুপার এইটে টিকে থাকার সম্ভাবনা নির্ধারণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগের দায়িত্বশীলতা, টপ অর্ডারের স্থিতিশীলতা এবং ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে দৃষ্টিপাত ভারতকে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।