শিক্ষা ডেস্ক
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া ৮৪ জন শিক্ষার্থীর সবাই বৃত্তি লাভ করেছে, যা শতভাগ সাফল্যের একটি বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬৮ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বৃত্তিপ্রাপ্ত ৮৪ জনের মধ্যে ৫৫ জন ছাত্র এবং ২৯ জন ছাত্রী রয়েছে। একক কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জনের ঘটনাও এটিই বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সহ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এটি সর্বোচ্চ সাফল্য। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডেও এক প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ বৃত্তি এবং এত সংখ্যক ট্যালেন্টপুল বৃত্তির নজির এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে সার্বিক জাতীয় পরিসংখ্যান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। এই পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হয়, যাতে তারা উচ্চতর শিক্ষায় উৎসাহিত হয়। ট্যালেন্টপুল বৃত্তি সাধারণ গ্রেডের তুলনায় উচ্চতর মেধা তালিকার শিক্ষার্থীদের প্রদান করা হয় এবং এর আর্থিক সুবিধাও তুলনামূলক বেশি।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, একক কোনো প্রতিষ্ঠানের শতভাগ সাফল্য শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত একাডেমিক তদারকি এবং শিক্ষার্থী প্রস্তুতির ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে ট্যালেন্টপুলে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীর সাফল্য প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান পদ্ধতি ও পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতির কার্যকারিতা নির্দেশ করে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যক্ষ মো. মমিনুল ইসলাম মমিন বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ ফলাফল অর্জিত হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষকদের পরিকল্পিত পাঠদান, নিয়মিত মডেল টেস্ট এবং শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিরিরবন্দর উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে দিনাজপুর জেলার শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বোর্ড পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সাফল্য জেলার সামগ্রিক শিক্ষা মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
ফলাফল প্রকাশের পর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে সহায়তা ও মেধা বিকাশে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়েও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।