অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
প্রয়োজনের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই দিনে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার গভর্নরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে নতুন গভর্নর নিয়োগের ঘোষণা দেয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবর্তন কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকেই সীমাবদ্ধ নয়; সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুসারে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের কর্মসূচি ও নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বুধবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে মো. মোস্তাকুর রহমানকে আগামী চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নিয়োগাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে মুদ্রানীতি প্রণয়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং খাতের তদারকি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে গভর্নর পদে পরিবর্তন দেশের আর্থিক খাতের নীতি ও দিকনির্দেশনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন সরকারের সামগ্রিক অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সমন্বয় সাধনের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণের পর মুদ্রানীতি, সুদের হার ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বৈদেশিক লেনদেন নীতিতে কোনো তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত। সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হলেও সরকার প্রয়োজনে মেয়াদ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে। বুধবারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটেছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বজায় রাখা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন গভর্নরের সামনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং আর্থিক খাতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ থাকবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন গভর্নরকে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান কার্যক্রম ও নীতিগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।