অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ করবর্ষে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৯ লাখ করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় এ ধরনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এনবিআরের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, সব ব্যক্তি করদাতাকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখের মধ্যে এই করবর্ষের রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করতে হবে। সময়মতো রিটার্ন দাখিল না করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের সুবিধার্থে বিশেষ রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু করেছে। নতুন ব্যবস্থায়, মোবাইল ফোনের পরিবর্তে করদাতার নিজস্ব ই-মেইলে ওটিপি (OTP) পাঠানো হবে, যা ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড রিসেট ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এটি বিশেষভাবে তাদের জন্য কার্যকর, যারা বিদেশে অবস্থান করছেন এবং সাধারণ মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন বা লগইন করতে পারছেন না।
এছাড়া, যেসব করদাতা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছেন কিন্তু বর্তমানে বিদেশে থাকায় মোবাইল ওটিপি ব্যবহার করতে পারছেন না, তাদের জন্য ই-মেইল ভেরিফিকেশন পদ্ধতি সম্প্রতি চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা বিদেশে থাকা করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ এবং দ্রুততর করবে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রিটার্ন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্নত হয়েছে এবং করদাতাদের জন্য সময় ও খরচ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত করদাতারা যে জটিলতার মুখোমুখি হতেন, তা এই নতুন ব্যবস্থা দ্বারা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সহজ প্রক্রিয়া এবং বিদেশি করদাতাদের জন্য ই-মেইল ভেরিফিকেশন সুবিধা করদাতাদের সরকারি কর নীতি ও আইন মেনে চলায় উৎসাহিত করবে। এর ফলে জাতীয় রাজস্ব সংগ্রহ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
এনবিআরের এই পদক্ষেপ দেশের কর প্রশাসনকে ডিজিটালাইজেশনের দিকে আরও শক্তিশালীভাবে অগ্রসর করছে। আগের বছরগুলোর তুলনায়, ২০২৫-২৬ করবর্ষে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের এই চিত্র বোঝাচ্ছে যে, ডিজিটাল কর ব্যবস্থার প্রসার এবং করদাতাদের মধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আস্থা বাড়ছে।
কর্মকর্তাদের মতে, যারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের এখনই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত করদাতারা নতুন ই-মেইল ভেরিফিকেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে সহজেই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এই ধরনের উদ্ভাবনী ব্যবস্থা করদাতাদের সুবিধা প্রদান করার পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংক্ষেপে, এনবিআরের সম্প্রতি চালু করা সুবিধা ও অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সহজীকরণ দেশের কর ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলেছে। চলতি করবছরের এই তথ্য দেশের কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর ও করদাতাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।