রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকার কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ করা চ্যালেঞ্জিং হলেও সম্ভব—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন। আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনটি পবিত্র রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি এবং সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল আলম মিলন ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয়ে কিছুটা ছাড় প্রদান করবেন। তিনি জানান, কারওয়ান বাজারে কোনও ধরনের চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না এবং সরকারের সহযোগিতা থাকলে এই সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। সংসদ সদস্যের এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাতটি পণ্যের মূল্য হ্রাসের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর ইসলামিয়া শান্তি সমিতির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয় যে, তেল, চিনি, গরুর মাংসসহ সাতটি পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। হ্রাসপ্রাপ্ত দাম নিম্নরূপ: রূপচাঁদা তেল (৫ লিটার) আগের ৯৪৫ টাকা থেকে ৯৪০ টাকা, ফ্রেশ তেল (৫ লিটার) ৯৪০ থেকে ৯৩৫ টাকা, চিনি ফ্রেশ (১ কেজি) ১০৪ থেকে ১০৩ টাকা, ট্যাং (২ কেজি বিদেশি) ১৫৮০ থেকে ১৫৬০ টাকা, ছোলা (১ কেজি) ৮২ থেকে ৮০ টাকা, গরুর গোশ্ত প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৮২ থেকে ৮১ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা রমজানের পুরো সময়কাল ধরে পণ্যসমূহকে স্থির মূল্যে বিক্রি করবেন। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, যদি কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধান শহরের বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়টি শুধু ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে সমাধানযোগ্য নয়; এতে প্রশাসনিক তদারকি এবং সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারওয়ান বাজার দেশের বৃহত্তম পাইকারী বাজারগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে দৈনন্দিন হাজার হাজার ক্রেতা এবং বিক্রেতা প্রতিনিয়ত কার্যক্রমে যুক্ত। অতএব, এখানে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে না আসলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
সরকারি সূত্র বলছে, রমজানের সময়ে মূল্যবৃদ্ধি ও চাঁদাবাজি রোধে জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সমন্বিত তদারকি অপরিহার্য। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্রেতাদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব।
সাইফুল আলম মিলনের উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা ও মূল্যের স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত পদক্ষেপকে ক্রেতা সংগঠনগুলো ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একবারের উদ্যোগে চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা নিয়মিত তদারকি ও সরকারের সক্রিয় সমন্বয় ছাড়া কার্যকর হবে না।
সংবাদ সম্মেলন এবং পরবর্তী মূল্য হ্রাসের উদ্যোগকে সাধারণ নাগরিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ এটি সরাসরি পরিবারের দৈনন্দিন বাজেট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রয় ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত। এর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, তারা রমজান মাসের জন্য পণ্যের মূল্য স্থির রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন, যা স্থানীয় বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ককে সুসংহত করবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে কারওয়ান বাজারে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও চাঁদাবাজি রোধে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। তবে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারের তদারকি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।