রাজনীতি ডেস্ক
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, কুরআনের আদর্শ কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা না হলে দেশ থেকে দুর্নীতি, অপশাসন ও জুলুম নির্মূল করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে কুরআনময় করতে না পারলে নাগরিকরা তাদের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত থাকবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) হোটেল সৈকতে নগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, সুধী ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান রমজান মাসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, রমজান অন্যান্য মাস থেকে ভিন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ। কারণ এ মাসেই পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছিল। তিনি রমজানকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য একটি বিশেষ নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও কুরআনের শিক্ষাকে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়নের মাস।
তিনি বলেন, ইতিহাসে হিজরতের মাধ্যমে আল্লাহর রাসুল (সা.) কুরআনের আদর্শকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর ফলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বর্তমানেও যদি দেশের প্রশাসন কুরআনের আলোকে পরিচালিত হয়, তবে দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম ও অন্যায় স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।
জামায়াতের নেতা আরও বলেন, দেশের এই সমস্যা মূলত কুরআনের বিধান রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত না থাকার কারণে। তিনি উল্লেখ করেন, কুরআনের শাসনব্যবস্থা কায়েম হলে শোষণমুক্ত, জনবান্ধব এবং নাগরিক অধিকার সম্মত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে নৈতিকতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
রমজানকে ‘কুরআন বিজয়ের মাস’ হিসেবে উল্লেখ করে মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বদরের প্রান্তরে এই মাসে সত্যের বিজয় হয়েছিল। তিনি বলেন, রমজানের শিক্ষা হলো নিজেকে কুরআনের অনুসারী হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজে কুরআনের ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নেওয়া। তিনি যোগ করেন, কুরআনকে জীবনে, পরিবারে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় বিজয়ী করতে হবে।
প্রতিষ্ঠিত অতিথি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও দেশের সংবিধান রক্ষা করতে আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, জনগণের রায়কে দ্রুততম সময়ে আইনি স্বীকৃতি প্রদান করা হলে দেশের শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সমসাময়িক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার উন্নয়নে কুরআনের শিক্ষাকে কেন্দ্র করে নৈতিকতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে কুরআনের নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে, ইফতার মাহফিল শেষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও সুধী নেতৃবৃন্দ কুরআনের আলোকে নাগরিক অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নিজেরা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।