অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর) সোনার মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার নতুন দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির হারে পার্থক্য থাকতে পারে।
এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি ভরিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে নির্ধারিত হয়েছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।
চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দাম ৩২ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০ বার বৃদ্ধি এবং ১২ বার হ্রাস ঘটেছে। তুলনামূলকভাবে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস করা হয়েছিল।
রূপার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। বর্তমানে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রূপার দাম ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ৪ হাজার ৮২ টাকা। চলতি বছর রূপার দাম ১৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে একবার বৃদ্ধি এবং সাতবার হ্রাস হয়েছে। ২০২৫ সালে রূপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বৃদ্ধি এবং তিনবার হ্রাস ছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা, স্থানীয় ক্রয়ক্ষমতা এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বাজুসের নিয়মিত সমন্বয় ব্যবহারকারীদের জন্য স্বর্ণের ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও বাজারবান্ধব করে তুলতে সহায়তা করে।
বাজারের এই পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে গহনা ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে মূল্য নির্ধারণ করছেন এবং ক্রেতাদের সচেতন থাকা প্রয়োজন, যাতে তারা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক মূল্য দিয়ে সোনার লেনদেন করতে পারেন।
এছাড়া, বাজার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধে স্বর্ণের মূল্যে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর ওঠানামা দেশের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।