বিনোদন ডেস্ক
ভারতরত্নপ্রাপ্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী এম এস সুব্বুলক্ষ্মী-এর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবী। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এ প্রকল্পটি পরিচালনা করবেন গৌতম তিন্নানুরি। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া না হলেও চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
চলচ্চিত্রটির নাম চূড়ান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি হবে পূর্ণাঙ্গ বায়োপিক, যেখানে সুব্বুলক্ষ্মীর শৈশব, সংগীতজীবনের উত্থান, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হবে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, বিশেষত কর্ণাটক সংগীত ধারার বিস্তারে সুব্বুলক্ষ্মীর অবদান বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এম এস সুব্বুলক্ষ্মী ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে বিবেচিত। তিনি প্রথম নারী সংগীতশিল্পী হিসেবে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে তাঁর পরিবেশনা ভারতীয় সংগীতকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করে তোলে। তাঁর কণ্ঠে ভক্তিমূলক সংগীত এবং কর্ণাটক ধারার রচনাগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এমন একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে চলচ্চিত্রে উপস্থাপন করা নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই চরিত্র প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছেন সাই পল্লবী। সুব্বুলক্ষ্মীর জীবন, পরিবেশনার ধরন, কণ্ঠস্বরের ভঙ্গি এবং মঞ্চ উপস্থিতি নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন। পাশাপাশি শাস্ত্রীয় সংগীতের ধারাবাহিকতা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কেও ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। চরিত্রকেন্দ্রিক প্রস্তুতির জন্য সাই পল্লবী পূর্বেও প্রশংসিত হয়েছেন। বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তিনি চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী ভাষা, ভঙ্গি ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন এনেছেন।
পরিচালক গৌতম তিন্নানুরি এর আগে বেশ কয়েকটি সমালোচকপ্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। চরিত্রনির্ভর গল্প বলায় তাঁর আগ্রহের বিষয়টি চলচ্চিত্র অঙ্গনে সুপরিচিত। ফলে সুব্বুলক্ষ্মীর জীবনীভিত্তিক এ প্রকল্পটি তাঁর পরিচালনায় কেমন রূপ পায়, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে উপস্থাপনের বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বড় বাজেটের সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র কল্কি ২৮৯৮ এডি-এর সম্ভাব্য সিকুয়েল নিয়েও সাই পল্লবীকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি, তবুও দক্ষিণ ভারতীয় ও প্যান-ইন্ডিয়া চলচ্চিত্র বাজারে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদি উভয় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তবে একদিকে ঐতিহাসিক সংগীতনির্ভর বায়োপিক এবং অন্যদিকে বিজ্ঞানভিত্তিক বৃহৎ বাজেটের চলচ্চিত্র—দুই ভিন্ন ধারার কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে তাঁর জন্য।
ভারতীয় চলচ্চিত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রবণতা বেড়েছে। সংগীত, ক্রীড়া, রাজনীতি ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের জীবন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করছে। এ প্রেক্ষাপটে সুব্বুলক্ষ্মীর জীবনকাহিনি নিয়ে নির্মিতব্য এ চলচ্চিত্রটি সংগীতপ্রেমী ও সাধারণ দর্শকের কাছে সমানভাবে আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও শুটিং সূচি প্রকাশিত হলে প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।