1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে বছরব্যাপী নানা আয়োজন সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন খসড়া পর্যালোচনায় ৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন সবাই মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের আবহমান কালের মূল মূল্যবোধ: প্রধানমন্ত্রী দেশে জুন মাসে ৩৩৩ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনের শিকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু, আসামি ৫ চট্টগ্রামে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ, এক মাসেই আক্রান্ত চারগুণ ইউরোপের ৬ দেশে রেনাটার থাইরয়েড ওষুধ রপ্তানির অনুমোদন তিস্তা প্রকল্পে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়: ইয়াও ওয়েন

বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল ঈদের পর শুরু, নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৭৬ বার দেখা হয়েছে

 

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি এবার দল পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। রমজান শেষে আসন্ন ঈদের পর দেশের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণ জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করা হবে। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে এবং সরকারে স্থান না পাওয়া নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে।

দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত প্রায় ১০ বছর ধরে বিভিন্ন কারণে জাতীয় কাউন্সিল হয়নি। বিএনপি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়া, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ থাকা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থান এবং দলের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা-হামলা ও হয়রানির কারণে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া, ২০২০ সালে দেশে করোনা পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রতিকূল পরিবেশের কারণে দল পুনর্গঠন এবং জাতীয় কাউন্সিল স্থগিত রাখা হয়েছিল।

তবে বর্তমানে রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূলে আসায় দল নতুন উদ্যমে জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু করেছে। কাউন্সিলের আগে সারাদেশে দলের বিভিন্ন স্তরের কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সিনিয়র নেতা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের কাজ তদারকি করা হচ্ছে। উৎসাহী নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত কাউন্সিলররা কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাবেন।

দলের কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যদিও সব সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠন শেষ করা সম্ভব হয়নি, তবু নির্বাচনের পর দলীয় হাইকমান্ড সর্বস্তরের কমিটিকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছে।

জাতীয় কাউন্সিলের আয়োজনের ফলে সারাদেশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিট থেকে কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নতুন কমিটিতে দীর্ঘদিন দলের কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় নেতা-কর্মীদের পরিবর্তে সক্রিয় তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করে নতুন কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে, প্রায় ১০ বছর ধরেই জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অনুকূলে থাকায় জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এছাড়া, এবারের কাউন্সিল আগের ৬টি কাউন্সিলের তুলনায় আরও বেশি জাঁকজমকপূর্ণ হবে বলে দলের সূত্রে জানা গেছে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সূত্র জানায়, জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটির পদপ্রত্যাশীরা নতুন কমিটিতে স্থান পাবেন। বর্তমানে ৫৯২ সদস্যের পুরানো কমিটিতে অর্ধশতাধিক শূন্য পদ রয়েছে। জাতীয় কাউন্সিলের পর নতুন কমিটিতে দেড়শতাধিক নেতা স্থান পাবে। এছাড়া জেলা-উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে ৮২টি সাংগঠনিক জেলায় কমিটি পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন হবে।

জাতীয় কাউন্সিলের জন্য ঈদের পর একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি দলের সর্বস্তরের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাউন্সিলের আয়োজন নিশ্চিত করবে। এবারের জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, এই কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে গতিশীল ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দীর্ঘ সময় কাউন্সিল না হওয়ায় দলীয় কার্যক্রমে কিছু শূন্যতা ও জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত বিজয়ের পর দল পুনর্গঠন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং এবার নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিএনপি দীর্ঘ সময়ের অচল অবস্থান কাটিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সক্রিয় ও সমন্বিত রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026