1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর স্বচ্ছতা ও খেলোয়াড়দের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ ভারতীয় দলকে টানা জয় ধারাবাহিকতা ভাঙল, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে পরাজয় বিসিবি নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের প্রতি কঠোর সিদ্ধান্ত ইশরাক হোসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ বিদ্যুৎ খাতে দেনা ও জ্বালানি সংকট: নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর বায়োপিকে সাই পল্লবী, পরিচালনায় গৌতম তিন্নানুরি তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে আটকে রাখার অভিযোগে বিতর্কিত কণ্ঠশিল্পি গ্রেপ্তার পুলিশে ২ হাজার ৭০১ কনস্টেবল জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বিদ্যুৎ খাতে দেনা ও জ্বালানি সংকট: নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

 

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের নতুন সরকার বিদ্যুৎ খাতে বিপুল দেনা এবং জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে, যা রমজানের পর সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বর্তমান সময়ে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি, তবে বিদ্যুৎ বিভাগ আশঙ্কা করছে যে এ বছর চাহিদা আঠারো হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

নবনিযুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবহার করে চাহিদা পূরণ করতে হবে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থসংস্থান এবং পরিকল্পিত ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে, কারণ বিদ্যুৎ খাত এখন সম্পূর্ণ আর্থিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বকেয়া বিপুল। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে তেলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। অনেক বেসরকারি কোম্পানি গত সাত-আট মাস ধরে বিদ্যুতের বিল পাননি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করীম বলেন, বকেয়া ধারাবাহিকভাবে জমেছে এবং সরকারের সাবসিডি বিলের পরিমাণও সমস্যার সমাধান করতে যথেষ্ট নয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট, যার ৮৮ শতাংশই গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানি এবং তেল ও কয়লা আমদানি করে চাহিদা পূরণ করতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের সরবরাহ বিলম্ব বা এলসি সমস্যা গরম মৌসুমে লোডশেডিং বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন উল্লেখ করেছেন, দেশের বিদ্যুতের ভর্তুকি প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকে আরও কার্যকর করতে কয়লা ব্যবহার বৃদ্ধি করা যেতে পারে। তবে তেলভিত্তিক কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত ভর্তুকি সীমা অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতি অনুযায়ী স্থির হতে হবে। তিনি জানান, সম্পূর্ণভাবে তেলভিত্তিক কেন্দ্র বন্ধ করা বর্তমানে সম্ভব নয়, কারণ পিক টাইমে তেলের ব্যবহার অপরিহার্য।

বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, সঠিকভাবে পরিচালিত আইপিপি ও বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ক্রাইসিস এবং উচ্চ খরচ বিদ্যুৎ উৎপাদনকে জটিল করেছে।

বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া দ্রুত পরিশোধ না করলে গ্রীষ্মকালে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কঠিন হবে বলে বেসরকারি উৎপাদনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এলসি খোলার সময় এবং আমদানি প্রক্রিয়ার কারণে তেলের নিট মজুদ ইতিমধ্যেই কমে এসেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে অর্থ ও জ্বালানি সরবরাহের সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, সরকার অতীতের অনিয়ম এবং বকেয়া পরিশোধের বিষয়গুলো সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, গরম মৌসুমে চাহিদা মেটাতে কয়লা, এলএনজি ও তেল আমদানি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো রমজান ও সেচের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লোডশেডিং কমানো।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026