বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মোট পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। সে অনুযায়ী ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ২৩ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের আগে ও পরে নির্ধারিত অন্যান্য ছুটি যুক্ত হওয়ার কারণে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে দীর্ঘ অবকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে ছুটি থাকবে, যা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। ১৮ মার্চ (বুধবার) সাধারণ কর্মদিবস হিসেবে নির্ধারিত। এরপর ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে।
ঈদের ছুটির পর ২৪ ও ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার ও বুধবার) সাধারণ কর্মদিবস। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নৈমিত্তিক ছুটি গ্রহণ করলে এই দুই দিনও অবকাশের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে। ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সরকারি ছুটি রয়েছে। এর পরদিন ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) হওয়ায়, মাঝের দুই কর্মদিবস ছুটি হিসেবে গ্রহণ করা গেলে ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ধারাবাহিক অবকাশ পাওয়া যেতে পারে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোতে ছুটির সময়সীমা সরকার ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী কার্যকর হবে। তবে জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো—যেমন হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও গণপরিবহন—চলমান দায়িত্ব পালনের স্বার্থে রোস্টারভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
দীর্ঘ ছুটির সম্ভাবনা থাকায় এ সময় দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন, পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছরই রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ জেলায় যান। ফলে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ থাকলে এ যাত্রার সময়সীমা কিছুটা বিস্তৃত হতে পারে, যা যানজট ও অতিরিক্ত চাপ ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে ছুটির মেয়াদ প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে সাধারণত তিন থেকে চার দিনের ঈদ ছুটি দেওয়া হয়। উৎপাদনসূচি, রপ্তানি আদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সময়সীমা বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে ছুটি নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী ওভারটাইম সমন্বয় বা বিশেষ ব্যবস্থায় কিছু প্রতিষ্ঠানে ছুটির সময়সীমা বাড়ানো হয়ে থাকে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আলাদা ছুটির সময়সূচি নির্ধারিত হবে। সাধারণত সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংক বন্ধ থাকে, তবে রপ্তানি-আমদানি ও বৈদেশিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট বিশেষ শাখা সীমিত পরিসরে খোলা রাখা হতে পারে।
ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। রমজান মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে এ উৎসব উদযাপিত হয়। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় সরকারি ছুটির সময়সূচিও আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদ দেখার ঘোষণার মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়।
সার্বিকভাবে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে সরকারি ছুটির বিন্যাসে দীর্ঘ বিরতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মপরিকল্পনা, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং জনসাধারণের ভ্রমণ প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।