বাংলাদেশ ডেস্ক
ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান কেরানীগঞ্জে ফসলি জমি দখল করে বালু ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় তিনি বলেন, কৃষিজমি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফসলি ভূমি দখল করে বালু ফেলে প্লট তৈরি বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মতো কার্যক্রম কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও অনিয়মিত ভরাটের ফলে জলাবদ্ধতা, পরিবেশদূষণ ও কৃষি উৎপাদন হ্রাসের মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদকবিরোধী অবস্থানের বিষয়ে আমানউল্লাহ আমান বলেন, ঢাকা-২ আসনে মাদক ব্যবসার কোনো সুযোগ থাকবে না। মাদক সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, মাদক তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়ালে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। চাঁদাবাজি বা দখলবাজির মতো অপরাধ সহ্য করা হবে না বলেও তিনি জানান। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধ সংঘটনের প্রবণতা দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় কেরানীগঞ্জের অবকাঠামো ও পরিবেশসংক্রান্ত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য। তিনি জানান, জয়নগর মাঠ এলাকা থেকে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি এলাকার পুকুরগুলোকে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সভায় তিনি আরও ঘোষণা দেন যে, ২০২৪ সালের আন্দোলনে ঘাটারচর এলাকায় নিহত রিয়াজের স্মরণে রিয়াজ চত্বর এলাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জননিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি হযরতপুর ব্রিজ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ওই এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কার্যক্রম থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে অমি, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া, শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক সাত্তার বেগ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উত্থাপিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।