বিনোদন ডেস্ক
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের আলোচিত জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবারাকুন্ডা তাদের আসন্ন বিবাহের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও সম্প্রতি তারা যৌথ বার্তায় বিয়ের সিদ্ধান্তের কথা জানান। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের রাজস্থান রাজ্যের উদয়পুরে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
দুজনের নামের সংমিশ্রণে ভক্তদের দেওয়া ‘বিরোশ’ নামটিকেই বিয়ের আনুষ্ঠানিক নাম হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারা। যৌথ বিবৃতিতে রাশমিকা ও বিজয় উল্লেখ করেন, ভক্তরা অনেক আগেই তাদের জন্য ‘বিরোশ’ নামটি তৈরি করেছিলেন। সেই নামের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের বিবাহ অনুষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছে ‘দ্য ওয়েডিং অব বিরোশ’। বিবৃতিতে তারা সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী শহর উদয়পুরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি প্রাসাদ বা বিলাসবহুল রিসোর্টে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়ের আয়োজন করা হবে। সম্ভাব্য ভেন্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য মেমেন্টোস বাই আইটিসি হোটেলস’, ‘র্যাফেলস উদয়পুর’ এবং ‘ফেয়ারমন্ট উদয়পুর প্যালাস’। এর মধ্যে আরাবল্লী পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত ‘দ্য মেমেন্টোস বাই আইটিসি হোটেলস’-এ আয়োজনের সম্ভাবনা বেশি বলে জানা গেছে। তবে আয়োজক পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট ভেন্যুর নাম ঘোষণা করেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল বিয়ের অনুষ্ঠানে তেলুগু বা হিন্দি চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অনুষ্ঠানটি পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে সীমিত পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিয়ের পর হায়দরাবাদ ও মুম্বাইয়ে পৃথক দুটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে, যেখানে চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা আমন্ত্রিত থাকবেন।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে। সেদিন সঙ্গীত ও মেহেন্দি অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে হলদি অনুষ্ঠান। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি মূল বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। একাধিক দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে নিরাপত্তা ও আয়োজন ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাশমিকা মান্দানা দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে প্রতিষ্ঠিত একজন অভিনেত্রী। কন্নড় ও তেলুগু ভাষার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি তামিল ও হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। বিভিন্ন বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সর্বভারতীয় পর্যায়ে পরিচিতি অর্জন করেন। অন্যদিকে বিজয় দেবারাকুন্ডা তেলুগু চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। তার অভিনীত একাধিক চলচ্চিত্র দেশব্যাপী দর্শকপ্রিয়তা পায়, যার ফলে তিনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
দুজনের একাধিক প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করার পর থেকেই তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও তারা দীর্ঘদিন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি, বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পারস্পরিক উপস্থিতি ও মন্তব্যের কারণে সম্পর্কের গুঞ্জন জোরালো হয়। অবশেষে বিয়ের ঘোষণার মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান ঘটল।
চলচ্চিত্র অঙ্গনে তারকাদের ব্যক্তিগত আয়োজনকে ঘিরে সাধারণত ব্যাপক গণমাধ্যম ও জনআগ্রহ দেখা যায়। তবে রাশমিকা ও বিজয়ের ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। বিয়ের পর আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা আয়োজনের মাধ্যমে তারা পেশাগত পরিমণ্ডলের সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।