রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীতে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্বোধনের মাধ্যমে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা এক মিনিটে নগরীর রাজারহাতা এলাকায় নির্মিত রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এ সময় রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর শহিদ মিনারটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
মহান ভাষা আন্দোলনের প্রায় ৭৪ বছর পর রাজশাহীতে একটি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের মধ্য দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ করার একটি দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হলো। জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত এই মিনার নির্মাণে মোট প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। নবনির্মিত মিনারে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
রাজশাহী জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। নগরীর নওদাপাড়া থেকে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট স্থানান্তরিত হওয়ায় রাজারহাতায় প্রায় এক বিঘা জমি খালি হয়, যা পরে শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে জেলা পরিষদ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মধ্যে মালিকানা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু সময় নির্মাণকাজ স্থবির থাকে। পরবর্তীতে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি পুনরায় শুরু হয়ে সম্পন্ন হয়।
নবনির্মিত শহিদ মিনারটি আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত, যা রাজশাহীর নতুন প্রতীক হিসেবে স্থান পাচ্ছে। রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, “মহান ভাষা আন্দোলন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং ভাষাসহ সকল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যেই এই শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এটি রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, যা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।”
উদ্বোধনের পর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরে ওঠে। রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেন। একুশের প্রথম প্রহরে সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। প্রাঙ্গণ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরে মুখর হয়ে ওঠে।
রাজশাহীবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন শহিদ মিনার শুধুমাত্র শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থানই নয়, বরং ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ ও প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। এটি শহরের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয় সমৃদ্ধ করতে এবং শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠবে।