খেলাধূলা ডেস্ক
ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজার কার্যকর ব্যাটিংয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে ‘বি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলংকা জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে তারা। চার ম্যাচে তিন জয় ও একটি পরিত্যক্ত ম্যাচসহ মোট সাত পয়েন্ট নিয়ে জিম্বাবুয়ে গ্রুপ সেরা হয় এবং সুপার এইটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। সমানসংখ্যক ম্যাচে তিন জয় ও এক হারে ছয় পয়েন্ট নিয়ে রানার্স-আপ হিসেবে পরের পর্বে ওঠে শ্রীলংকা।
কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলংকা। উদ্বোধনী জুটিতে পাঁচ ওভারে ৫৪ রান সংগ্রহ করে দলটি দ্রুত সূচনা পায়। ওপেনার কুশল পেরেরা ১৪ বলে ২২ রান করে বিদায় নেন। এরপর কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ে দলীয় রান শতকে পৌঁছে দেন অপর ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা। মেন্ডিস ১৪ রানে আউট হলেও নিশাঙ্কা ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং ৪১ বলে ৬২ রান করে ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন।
দলীয় ১০৮ রানে নিশাঙ্কা ফিরে গেলে মাঝের সারিতে দায়িত্ব নেন পাভান রত্নানায়েক। তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ২৫ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে তিনি দলীয় সংগ্রহকে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যান। নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে শ্রীলংকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৮ রান। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্লেসিং মুজারাবানি, ব্র্যাড ইভান্স ও গ্রায়াম ক্রেমার দুটি করে উইকেট নেন।
১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে শুরুতেই স্থিতিশীল জুটি গড়ে। বেনেট ও তাদিওয়ানশে মারুমানি ৫১ বলে ৬৯ রান যোগ করেন। মারুমানি ২৬ বলে ৩৪ রান করে আউট হন। তিন নম্বরে নেমে রায়ান বার্ল ১২ বলে ২৩ রানের দ্রুত ইনিংস খেলেন, যা রান তাড়ার গতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
দলীয় ৯৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর বেনেট ও রাজা ৪০ বলে ৬৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। জয় থেকে ১২ রান দূরে থাকতে রাজা আউট হলেও শেষ পর্যন্ত বেনেট ও টনি মুনিয়োঙ্গা দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। বেনেট ৪৮ বলে ৬৩ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১১তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন। মুনিয়োঙ্গা তিন বলে আট রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচে অবদানের জন্য রাজা সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
এই জয়টি পরিসংখ্যানগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শ্রীলংকার বিপক্ষে এটিই জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। এর আগে ২০২৪ সালে ১৭৪ রান তাড়া করে জয়ের নজির গড়েছিল তারা। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফলে চলতি আসরে জিম্বাবুয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা সুপার এইট পর্বে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে ‘গ্রুপ-১এ’-তে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ২৩ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান অর্জন করায় নেট রানরেট ও সূচির দিক থেকে তারা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মত।