বাংলাদেশ ডেস্ক
পবিত্র রমজান মাসে রংপুরে ৮ হাজার দরিদ্র, এতিম ও অসহায় মানুষকে ইফতার সামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছেন নারী ক্রিকেটার ও সমাজসেবিকা আরিফা জাহান বিথি। তিনি স্থানীয় সামাজিক সংগঠন উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি (ডব্লিউডিসিএ) রংপুর এবং হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।
গত বছরও পবিত্র রমজান মাসে ৬ হাজার দরিদ্র ও দুস্থ মানুষকে উচ্চমানের স্বাস্থ্যকর ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছিলেন বিথি। কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে তিনি সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিভিন্ন বহুমাত্রিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
বিথি জানিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ইফতার সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন, মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে যারা দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি ইফতার সামগ্রী বিতরণ ও খাদ্য সহায়তার মাধ্যমে এসব মানুষকে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রংপুরের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকায় অসহায় মানুষদের মাঝে ইফতার সামগ্রী সরবরাহ করা হবে। বিতরণ কার্যক্রমে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সমাজকর্মীরাও অংশগ্রহণ করবেন। বিথির এই উদ্যোগ স্থানীয় সমাজে মানবিক সহায়তার চেতনা জাগ্রত করেছে এবং অন্যান্য সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি-সমাজকর্মীদের মধ্যেও অনুপ্রেরণা সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
সমাজকর্মীদের মতে, এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, বরং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করাও সম্ভব। এছাড়া, Ramadan-এর সময় এ ধরনের সহায়তা সামাজিক সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধ বৃদ্ধিতেও সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডব্লিউডিসিএ রংপুর ও হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন স্কুল, মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারের মাধ্যমে অসহায় মানুষের তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকার ভিত্তিতে ইফতার সামগ্রী বিতরণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিথির নেতৃত্বে এই প্রচেষ্টা স্থানীয় সরকারের সহায়তা ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের উদ্যোগ দেশে সামাজিক সহমর্মিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং জনসাধারণের মধ্যে দারিদ্র্য ও দুর্ভোগ হ্রাসে অবদান রাখতে পারে। রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় ইফতার সামগ্রী বিতরণের কার্যক্রম চলমান থাকবে পুরো রমজান মাসজুড়ে, যাতে সমাজের সব শ্রেণীর সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উপকৃত হতে পারে।