আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েল ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘কান’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় সবুজ সংকেত দিতে পারে, সেই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলি সেনারা প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অনুমতি ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান শুরু করা হবে না। ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল তারা। একই সঙ্গে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় তেমন কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনা বাড়ছে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।
ইসরায়েলের লক্ষ্য মূলত ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থা। এটি ইরানের সামরিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ইসরায়েলকে তাদের প্রাক-হামলা প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে প্ররোচিত করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল বিভিন্নবার সতর্কতা জারি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কূটনৈতিক চাপ এই উত্তেজনাকে আরও জটিল করেছে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ইঙ্গিত দেয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান এবং তা যে কোনো সময় প্রকট হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল স্থাপনাগুলোতে হামলা শুধু সামরিক প্রভাবই ফেলবে না, বরং আঞ্চলিক রাজনৈতিক মানচিত্রকেও প্রভাবিত করতে পারে। ইসরায়েলের পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রস্তুতি মূলত বিমান অভিযান, লক্ষ্যবস্তুর সনাক্তকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রস্তুতি ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল স্থাপনাগুলোর ওপর সম্ভাব্য হামলার জন্য পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ।
সুত্র: আনাদোলু