বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে নিজের গাড়িতে চলাফেরা করতে শুরু করেছেন। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথম দিনের কর্মসূচিতে তিনি নিজস্ব সাদা টয়োটা গাড়িতে সাভার ও শেরে বাংলা নগর ভ্রমণ করেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে চারটি করা হয়েছে। এর আগে সাধারণত ১৩-১৪টি গাড়ি ব্যবহার করা হতো।
প্রেস সচিব শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব গাড়িতে চলাফেরার উদ্যোগের মূল কারণ যানজট এবং সাধারণ জনগণের অসুবিধা কমানো। তিনি বলেন, “আজকের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী সাভার ও শেরে বাংলা নগরে নিজের গাড়িতে গেছেন এবং সচিবালয়ে এসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন।” তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিদেশি অতিথিদের সফরের সময় গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য হলো মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য যাতায়াত সহজ করা এবং ভিআইপি চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো। শিবলী জানান, পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে সব মন্ত্রীকে সচিবালয় থেকে আসতে হতো, যা পথে জট সৃষ্টি করত।
রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুই পাশে পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েনের নিয়মও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানো এবং যানজট কমানো লক্ষ্য করা হচ্ছে।
সকালেই প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি শুরু হয় গুলশানের বাসা থেকে। তিনি নিজস্ব গাড়িতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই দুই স্থানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ, সচিবালয়ে ফিরে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে অংশ নেন, যেখানে বর্তমান সরকারের নীতিমালা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারি গাড়ি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং যাত্রাপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত নির্দেশনার ফলে ভিআইপি চলাচল ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।