খেলাধূলা ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টানা চার জয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখে পরবর্তী পর্বে উঠেছে ভারত। নিজেদের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ১৭ রানে পরাজিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৩ রান করার পর প্রতিপক্ষকে ৭ উইকেটে ১৭৬ রানে সীমাবদ্ধ রাখে ভারত।
ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তবে ইনিংসের শুরুটা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। তৃতীয় বলেই আরিয়ান দত্তের বলে বোল্ড হন অভিষেক শর্মা। টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয়বার শূন্য রানে আউট হয়ে তিনি দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেন। পরবর্তীতে ইশান কিষাণ ১৮, তিলক বর্মা ৩১ এবং সূর্যকুমার যাদব ৩৪ রান করে বিদায় নিলে মধ্যভাগে রানসংগ্রহের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে শিবম দুবে ও হার্দিক পান্ডিয়া দলের হাল ধরেন। দুবে ৩১ বলে ৬৬ রানের একটি আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও ছক্কা। অন্য প্রান্তে পান্ডিয়া ২১ বলে ৩০ রান করে কার্যকর সমর্থন দেন। দুজনের মধ্যে ৩৫ বলে ৭৬ রানের জুটি ভারতের সংগ্রহকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে যায়। শেষ ওভারে দুজনই আউট হলেও ততক্ষণে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৯৩, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত।
নেদারল্যান্ডসের বোলারদের মধ্যে লোগান ফন বিক ৩ উইকেট নিলেও খরচ করেন ৫৬ রান। আরিয়ান দত্ত ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং প্রদর্শন করেন।
১৯৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডস সতর্ক সূচনা করে। তবে ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ম্যাক্স ও’ডাউড ২০ রানে এবং মাইকেল লেভিট ২৪ রানে আউট হন। এরপর বাস ডি লিডি ২৩ বলে ৩৩ এবং কলিন অ্যাকারম্যান ১৫ বলে ২৩ রান করে লড়াই চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নির্দিষ্ট বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে প্রয়োজনীয় রানরেট ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
ভারতের হয়ে বরুণ চক্রবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন এবং মধ্যভাগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে আনেন। তার স্পিনে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা রান তোলায় স্বচ্ছন্দ হতে পারেননি। এছাড়া অন্যান্য বোলাররাও সাপোর্টিং ভূমিকা পালন করে ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
শেষদিকে জ্যাক লায়ন-ক্যাশে ২৬ এবং নোয়া ক্রস অপরাজিত ২৫ রান করে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। তবে লক্ষ্য থেকে অনেকটাই দূরে থেমে যায় নেদারল্যান্ডসের ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৭ উইকেটে ১৭৬ রান সংগ্রহ করে।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত গ্রুপ পর্বে পূর্ণ ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে। একই গ্রুপে থাকা পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইটে উন্নীত হয়। সুপার এইট পর্বে ভারতের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে। এই পর্বে প্রতিটি ম্যাচ নকআউট ধাঁচের গুরুত্ব বহন করবে, যেখানে সেমিফাইনালে ওঠার জন্য ধারাবাহিক পারফরম্যান্স অপরিহার্য হবে।
গ্রুপ পর্বে ভারতের ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যভাগে দ্রুত রান তোলা এবং স্পিন আক্রমণের কার্যকারিতা দলকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। সুপার এইট পর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।