বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব, একান্ত সচিব (পিএস)-২ এবং সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস)-২ পদে তিনজনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্ধারিত বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপে বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন এবং যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) তাদের নিয়োগ কার্যকর থাকবে।
জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমনকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রেড-২ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপে বেতন পাবেন। অতিরিক্ত প্রেস সচিব হিসেবে তার দায়িত্বের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের গণমাধ্যম-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়, সরকারি সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ পদটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্যপ্রবাহ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
একই প্রজ্ঞাপনে মো. মেহেদুল ইসলামকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রেড-৪ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপে বেতন-ভাতা প্রাপ্য হবেন। একান্ত সচিবের দায়িত্বের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক সময়সূচি সমন্বয়, নথিপত্র ব্যবস্থাপনা, দাপ্তরিক যোগাযোগ রক্ষা এবং প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এ পদটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
এ ছাড়া আব্দুর রহমান সানিকে সহকারী একান্ত সচিব-২ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি গ্রেড-৬ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপে বেতন পাবেন। সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে তিনি একান্ত সচিবকে সহায়তা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনে ভূমিকা রাখবেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তা অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ পেয়েছেন। অর্থাৎ দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তাদের পূর্ববর্তী কর্ম-সম্পর্ক থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। এটি স্বচ্ছতা ও স্বার্থসংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যে সরকারি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের একটি প্রচলিত শর্ত।
আরও জানানো হয়েছে, নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি পৃথক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত দায়িত্বের পরিধি, বেতন-ভাতা, ছুটি, অবসর-সুবিধা এবং চুক্তি বাতিলের শর্তাবলি চুক্তিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে এ ধরনের নিয়োগ প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়ে থাকে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ নিয়োগ কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত যোগদান ও দায়িত্ব গ্রহণের পর দপ্তরের কার্যক্রমে নতুন সমন্বয় যুক্ত হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।