শিক্ষা ডেস্ক
পবিত্র রমজান মাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও জাতীয় দিবস উদযাপনের কারণে দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে ছুটি শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যে মাদ্রাসা ও কলেজগুলোতে ছুটি কার্যকর হয়েছে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে। এবার সরকার মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ছুটি ঘোষণা করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল রাতের (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুটি পৃথক সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসের পাশাপাশি শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, শব-ই-কদর (১৭ মার্চ), জুমাতুল বিদা (২০ মার্চ), ঈদ-উল ফিতর (২১ মার্চ) এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৬ দিন ছুটি থাকবে।
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের পূর্বের প্রজ্ঞাপনের আলোকে, গত ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদরাসাগুলোও ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হবে ২৯ মার্চ থেকে।
ছুটির এই সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচি সমন্বয় করে নেওয়ার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি, পড়াশোনা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুবিধা দৃষ্টিগোচর হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ছুটি চলাকালে বিদ্যালয় ও কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমিত থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ছুটির পূর্বে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ছুটির এই ব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় অনুশীলন, পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি ছুটি পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী হলে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ছুটির সময়সূচি সম্পর্কে তথ্যপ্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নির্ধারিত ছুটির দিনগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবে।
এভাবে দেশের প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা আগামী ৩৬ দিন বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ছুটি উপভোগ করবেন, যা শিক্ষার্থীদের সমন্বিত শিক্ষাজীবন ও পারিবারিক মূল্যবোধের বিকাশে সহায়ক হবে।