1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক মেসি শুরুতেই খেলতে পারেন জাম্বিয়ার বিপক্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বাজেট বৃদ্ধি, বকেয়া পরিশোধসহ অবকাঠামো ও সরঞ্জাম উন্নয়নে বরাদ্দ করদাতাদের জন্য সারাবছরের অনলাইন রিটার্ন সুবিধা ঘোষণা জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল: জ্বালানি বিভাগ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যু তদন্তের দাবি তোলার উদ্যোগ ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন অলকা ইয়াগনিকের গান থেমে গেল বিরল স্নায়বিক সমস্যায় আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগ জাপান প্রথমবারের মতো দূরপাল্লার টাইপ-১২ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ইরান-মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: মাহাল্লাতে হামলায় নিহত ১১

সিমকার্ড সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তে দেশের মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার কমেছে

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৯৩ বার দেখা হয়েছে

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক

দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি সিমকার্ড বাতিল করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশের প্রায় ৮৮ লাখ সিমকার্ড বন্ধ হয়েছে এবং আরও এক লাখ সিম মামলাসংক্রান্ত কারণে স্থগিত রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রতিটি গ্রাহকের কাছে সর্বোচ্চ সিমসংখ্যা পাঁচটিতে সীমিত করা হবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, দেশের ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে গ্রাহকপ্রতি সিমকার্ড সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নভেম্বর থেকে গ্রাহকের বিপরীতে ১০টির বেশি সিম বন্ধ করা শুরু করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গ্রাহকপ্রতি সিমসংখ্যা পাঁচটিতে নামানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও নির্বাচনের আগে তা কার্যকর করা হচ্ছে না। নির্বাচনের পর ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে বিটিআরসি জানিয়েছে।

বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান জানান, “গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি সিম বাতিলের মাধ্যমে প্রায় ৮৯ লাখ অতিরিক্ত সিম চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮ লাখের বেশি সিম বন্ধ করা হয়েছে, বাকি এক লাখ সিম ভিআইপি এবং মামলার কারণে স্থগিত আছে। নির্বাচনের পর ধাপে ধাপে সিমসংখ্যা পাঁচটিতে নামানো হবে।”

সিম কমানোর ফলে দেশের মোবাইল ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু ও সিম বাতিলের কারণে গত ছয় মাসে প্রায় ১৮ লাখ মোবাইল গ্রাহক এবং ৬২ দশমিক ৬ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪-এ দেশের চারটি সিম অপারেটরের মোট মোবাইল ব্যবহারকারী সংখ্যা ১৯ কোটি ৪২ লাখ ছিল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তা কমে ১৮ কোটি ৮৭ লাখে এবং নভেম্বর-২৫ পর্যন্ত ১৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে এসেছে।

মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার কমলেও ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৪৬ লাখ, যা জুলাই ২০২৪-এ ১ কোটি ৩৫ লাখ ছিল। অন্যদিকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ১১ কোটি ৫২ লাখ, যা জুলাই ২০২৫-এ ১২ কোটি ১৫ লাখ এবং জুলাই ২০২৪-এ ১২ কোটি ৭৫ লাখেরও বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমার পেছনে সরকারের কঠোর নীতি, সিমসংখ্যা কমানো, মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্রডব্যান্ডের সহজলভ্যতা প্রভাব ফেলেছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, “মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার কমার দুটি প্রধান কারণ হতে পারে। প্রথমত, গ্রাহকপ্রতি সিমকার্ড সংখ্যা কমানো। দ্বিতীয়ত, ব্রডব্যান্ডের ব্যবহার বৃদ্ধি। যখন সিমের ব্যবহার কমবে, তখন মোবাইল ব্যবহারও হ্রাস পাবে, যা ইন্টারনেট ব্যবহারকেও প্রভাবিত করবে। কোভিড-১৯-এর সময় মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছিল, কিন্তু প্যান্ডেমিক পরবর্তী সময়ে তা স্বাভাবিকভাবে কমেছে।”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান আরও জানান, “গ্রাহকপ্রতি সিমসংখ্যা ১০টিতে নামানোতে তেমন প্রভাব নেই। তবে পাঁচটিতে নামালে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে এবং রাজস্ব ও অন্যান্য খাতে প্রভাব দেখা দেবে।”

এ সিদ্ধান্তের প্রভাব দেশের মোবাইল যোগাযোগ খাত, ইন্টারনেট ব্যবহার এবং সাধারণ গ্রাহকের দৈনন্দিন ডিজিটাল কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026