1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সুন্দরবন মধু আহরণ মৌসুম উদ্বোধন: বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের অভিযোগ সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংসদে নির্দিষ্ট প্রশ্নোত্তর সময় বরাদ্দ ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ শোতে শীর্ষে, আন্তর্জাতিক মুক্তি ৫২ প্রেক্ষাগৃহে ‘প্রিন্স’ সিনেমার ঈদমুখী মুক্তি পরিকল্পনায় ব্যর্থতা পাংশা মডেল থানায় নারীর ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল ৭ মে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি ও দক্ষতার স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশ বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে এনসিপি নেতার বক্তব্য

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫১ বার দেখা হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেছেন, প্রায় ৩০ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখানে থেকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ এলাকায় আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব বক্তব্য দেন।

বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁর দলের তথ্যমতে, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি অংশকে সেখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, সেগুলোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করেছে এবং এ কারণে কূটনৈতিক পর্যায়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন ছিল।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একতরফা সুবিধা বা ছাড়ের ভিত্তিতে কোনো সম্পর্ক টেকসই হতে পারে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ অপরাধীদের আশ্রয় দেবে না, তেমনি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে যে প্রতিবেশী দেশও তাদের অপরাধীদের আশ্রয় দেবে না।

সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি গুলি চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন, যদি সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে, তাহলে এর প্রতিবাদ জানানো বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার। সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সংযম ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে সাংস্কৃতিক প্রভাবের বিষয়টিও উঠে আসে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, টেলিভিশন ও সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সমাজে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তার করেছে। তাঁর মতে, এর ফলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে শক্তিশালী না হলে একটি দেশ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ায় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মকেই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

উঠান বৈঠকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বর্তমান আঞ্চলিক রাজনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়—এই সব বিষয় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রধান উপাদান। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026