1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধ রুখতে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল, ভিএআর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দালিচ ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে নকআউটে পর্তুগাল, রোনালদোর ম্যাচসেরা হওয়া নিয়ে বিতর্ক বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিল আলজেরিয়া ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায় মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, বিমান অগ্নিদগ্ধ লস অ্যাঞ্জেলেসে নাইট রাইডার্স গ্রুপের বিশ্বমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম উদ্বোধন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের প্রস্তুতি সম্পন্ন: যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে এনসিপি নেতার বক্তব্য

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৬ বার দেখা হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেছেন, প্রায় ৩০ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখানে থেকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ এলাকায় আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব বক্তব্য দেন।

বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁর দলের তথ্যমতে, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি অংশকে সেখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, সেগুলোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করেছে এবং এ কারণে কূটনৈতিক পর্যায়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন ছিল।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একতরফা সুবিধা বা ছাড়ের ভিত্তিতে কোনো সম্পর্ক টেকসই হতে পারে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ অপরাধীদের আশ্রয় দেবে না, তেমনি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে যে প্রতিবেশী দেশও তাদের অপরাধীদের আশ্রয় দেবে না।

সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি গুলি চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন, যদি সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে, তাহলে এর প্রতিবাদ জানানো বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার। সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সংযম ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে সাংস্কৃতিক প্রভাবের বিষয়টিও উঠে আসে। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, টেলিভিশন ও সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সমাজে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তার করেছে। তাঁর মতে, এর ফলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে শক্তিশালী না হলে একটি দেশ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ায় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মকেই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

উঠান বৈঠকে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বর্তমান আঞ্চলিক রাজনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়—এই সব বিষয় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রধান উপাদান। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026