জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নারী নেতৃবৃন্দের প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বুধবার এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে এই বিশেষ প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয় এবং ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে বিশ্বমঞ্চের নারী সরকারপ্রধান ও নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মটি পরিচালিত হয়ে আসছে। বিশ্বজুড়ে জটিল সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে নারীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা জোরদার করাই এই বিশেষ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
উদ্বোধনী পর্বে নারীর সমতা ও ক্ষমতায়নের ওপর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নারীর নেতৃত্বকে প্রান্তিক পর্যায় থেকে মূল কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। নারী যখন কার্যকর নেতৃত্ব দেয়, তখন পুরো বিশ্ব সামনের দিকে এগিয়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উচ্চপর্যায়ের এই বিশেষ অধিবেশনে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব থেরেসা লাজারো এবং ইউএন উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা সামি বাহাউস বক্তব্য রাখেন। আলোচনায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে নারী নেতৃত্বে থাকলে সমাজ অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী ভিত্তি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই শান্তি নিশ্চিত হয়। এ সময় ২০২৬ সালের জেন্ডার স্ন্যাপশট প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। বর্তমান বাস্তবতায় বৈশ্বিক পর্যায়ে মাত্র সাতটি দেশের মধ্যে একটি দেশে নারী নেতৃত্ব বিদ্যমান রয়েছে উল্লেখ করে সরকারি অর্থ বরাদ্দ, জননিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে নারীর পূর্ণ সমতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান বিশ্বমঞ্চে নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় সমসুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতাদের যৌথ অঙ্গীকারের ওপর তিনি আলোকপাত করেন। এ সময় সমবেত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা বৈশ্বিক ফোরামে নারীর ক্ষমতায়নে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।