1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

অগ্নিকাণ্ডের প্রায় এক বছর পরও কার্গো জট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ঢাকা বিমানবন্দর

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ১১ মাস পরও আমদানি পণ্য খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি।

ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের আগে বিমানবন্দরে সাধারণত ১০০ টনের বেশি পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকত। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রতিদিন এ জট বেড়ে প্রায় ৪০০–৫০০ টনে পৌঁছেছে।

ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে জমে থাকা পণ্যের কিছু অংশ খোলা আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে। পণ্য খালাসে দেরি, সাপ্তাহিক ছুটিতে কার্যক্রম বন্ধ থাকা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সমস্যা এবং পণ্য স্ক্যানিংয়ের সীমিত সক্ষমতার কারণে খালাস কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ জট অব্যাহত থাকায় বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ বাড়লে এ সমস্যা আরও গুরুতর হতে পারে।

অবকাঠামোগত সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো আমদানি কার্গোর মূল এলাকায় কার্যকর স্ক্যানার না থাকা। অগ্নিকাণ্ডের পর সেখানকার স্ক্যানারগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কাস্টমসকে পণ্যের কাগজপত্র যাচাই ও সরাসরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

এদিকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবরের অগ্নিকাণ্ডের পর জমে থাকা পণ্যের পরিমাণ ২ হাজার টনের বেশি হলেও এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নতুন স্ক্যানার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএএবি) সভাপতি কবির আহমেদ বলেন, কোনো চালান আসার দিন খালাস না হলে তা 'লেফট-ওভার' বা জমে থাকা কার্গোতে পরিণত হয়।

আমদানি পণ্য খালাসে বিভিন্ন সনদ ও কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। এসব কাগজপত্র জমা দেওয়া বা প্রক্রিয়াকরণে দেরি হলে পণ্য খালাসও আটকে যায় বলে জানান তিনি।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়েও রয়েছে সমস্যা। কবির বলেন, বিমান কখনো কখনো সময়মতো পণ্য খালাসের জন্য হাজির করতে পারে না। আবার গুদামে পণ্য কোথায় রাখা হয়েছে, তা খুঁজে বের করতেও সময় লাগে।

তিনি বলেন, গুদাম ব্যবস্থাপনাও এখনো মানসম্মত নয়। কবির টিবিএসকে বলেন, "গুদামের কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। অস্থায়ী ব্যবস্থায় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।"

কবিরের মতে, কার্গো কার্যক্রমকে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোর সঙ্গে যুক্ত একটি সমন্বিত অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি কার্গো ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিমান, কাস্টমস ও অন্যান্য সংস্থার মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় প্রয়োজন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চালু থাকলেও শুক্র ও শনিবার এবং সরকারি ছুটির দিনে পণ্য খালাসের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কারণ এসব দিনে অনেক আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করেন না।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক রাগিব সামাদ টিবিএসকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি অংশ গত জানুয়ারির দিকে আমদানি পণ্য রাখার উপযোগী করে তোলা হয়। বর্তমানে সেখানে পণ্য রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ফ্লাইট চলাচল ও পণ্য আসা অব্যাহত থাকে। কিন্তু খালাসের গতি কমে যাওয়ায় পণ্য জমতে থাকে এবং পরবর্তী কর্মদিবসগুলোতে সেগুলো খালাস করতে হয়।

কর্তৃপক্ষ মনে করছে, আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করলে এ চাপ কমতে পারে। তবে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা বলছেন, ছুটির দিনে কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত জনবল ও ব্যয় প্রয়োজন হওয়ায় তাদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনা, ছাড় বা বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, আমদানিকারকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য ফেলে রাখেন না।

তিনি টিবিএসকে বলেন, "এত টাকা খরচ করে পণ্য দেশে আনার পরও কাস্টমসের সহযোগিতার অভাব বা নানা জটিলতার কারণে অনেক সময় আমরা দ্রুত পণ্য খালাস করতে পারি না।"

রাগিব সামাদ বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন জমে থাকা পণ্যের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪০০–৫০০ টনে পৌঁছেছে। তার মতে, সাত দিনের মধ্যে খালাস না হওয়া পণ্যের বিষয়ে কাস্টমসের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি খালাস না হওয়া পণ্য বিক্রির জন্য একটি আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের আগে মূল কার্গো এলাকায় দুটি স্ক্যানার ছিল। এর মধ্যে একটি সচল ছিল এবং অন্যটি আগে থেকেই ত্রুটিপূর্ণ ছিল। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর দুটিই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আমদানি পণ্য স্ক্যানিংয়ের জন্য চারটি মেশিন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বিমানবন্দরে পণ্য জমে থাকার প্রধান কারণ স্ক্যানারের ঘাটতি নয় বলে জানান কামরুল। তিনি বলেন, প্রায় ৮০ শতাংশ চালান এক দিনের মধ্যেই গুদাম থেকে বের হয়ে যায়।

তিনি বলেন, "অগ্নিকাণ্ডের আগেও পণ্য জমে থাকত। কারণ আমদানিকারক ও এজেন্টদের সব পণ্য সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নেই। অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ থাকে এবং নিজেদের গুদামে পণ্য রাখতে পারে না। তাই তারা প্রায়ই কর্মদিবসে পণ্য সংগ্রহ করে।"

তার হিসাবে, অগ্নিকাণ্ডের আগে জমে থাকা পণ্যের পরিমাণ ছিল ১০০ টনের বেশি। সে সময় আমদানি কার্গো গুদাম পুরোপুরি সচল থাকায় পণ্য জমে থাকার পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল। বর্তমানে গুদামটি সক্ষমতার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ টন আমদানি পণ্য আসে। তবে কোনো কোনো দিন এ পরিমাণ কমে প্রায় ৩০০ টনও হয়।

বিমানের মুখপাত্র মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, কার্গোর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে তার আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাস্টমসের নির্ভরতা বেড়েছে সরাসরি পণ্য পরীক্ষায়

স্ক্যানারের ঘাটতির কারণে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই পণ্য ছাড় করা হচ্ছে—এমন ধারণা নাকচ করেছেন কামরুল। তিনি বলেন, সন্দেহজনক চালান শনাক্ত করতে কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই করেন এবং প্রয়োজন হলে সরাসরি পণ্য পরীক্ষা করেন।

তবে আধুনিক স্ক্যানার থাকলে এ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে স্বীকার করেন তিনি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্যের পরিমাণ বেশি হলে সরাসরি পরীক্ষা করতে অনেক সময় লাগে। তাদের মতে, ঝুঁকিভিত্তিক কাস্টমস পরীক্ষার পাশাপাশি আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন।

রপ্তানি কার্গো ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতার ঝুঁকি

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026