ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাইফুল হক বলেছেন, বর্তমান সময়ে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে। দেশজুড়ে এখন বাকস্বাধীনতা অবারিত।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে বাকস্বাধীনতা রক্ষা ছিল অন্যতম প্রধান দাবি। আজ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দল কোনো চাপ ও হুমকি ছাড়া স্বাধীনভাবে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতে পারছে। একইসঙ্গে দেশে বর্তমানে গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারা বিস্তৃত হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভোট বা নির্বাচন। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের টানা তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার পুরোপুরি কেড়ে নিয়েছিল। গণতন্ত্রের নামে সে সময় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র কায়েম করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের সেই স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছর পর, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মানুষ তাদের বহুল প্রতীক্ষিত অধিকার ফিরে পেয়েছে। ওই নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করার পর দেশে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়।
সাইফুল হক বলেন, নির্বাচনের পর প্রায় সাত মাস কেটে যাচ্ছে। এই প্রথম কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর দুই একটি ব্যতিক্রম ছাড়া দেশে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক গুম, দমন-পীড়ন কিংবা রাজনৈতিক গ্রেফতার দেখা যায়নি। এর ফলে আগের ভয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘গণতন্ত্রের একটি বড় বিষয় হলো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা। বর্তমানে প্রধান বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা যে স্কেলে সরকারের সমালোচনা করছেন সংসদের বাইরে ও ভেতরে তাতে বোঝাই যায় তারা পরিপূর্ণ স্বাধীনতাই ভোগ করছেন। সংবাদপত্র ও সরকার অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তাঁর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সমালোচনা অবাধে করা যাচ্ছে। এই সুযোগটি কিন্তু আগে ছিল না। স্বাধীনতা এখন দেশের সর্বত্র।’
তিনি বলেন, বিএনপি ছিল উপমহাদেশের অন্যতম নির্যাতিত ও নিপীড়িত দল। গত ১৫ বছরে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৬০ লাখ গায়েবি মামলা দেওয়া হয়। তখনকার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারকে খুশি করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা উচ্চ আদালতে ১০ বছর করা হয় এবং জামিনযোগ্য মামলা আটকে রাখা হয়। বিচার বিভাগকে তখন বিরোধী দল নিপীড়নের হাতিয়ার বানিয়ে একটি অনুগত সংস্থায় পরিণত করা হয়েছিল। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার গত ছয় মাসে সেই অবস্থান থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে।
সাইফুল হক বলেন, তৎকালীন সরকারকে খুশি করতে গিয়ে বিচার বিভাগ এ কাজগুলো করেছে। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগ, তাই বিচার বিভাগকে এ ধারা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি যে ধরনের বিচার বিভাগ দেখতে চেয়েছে, এখন সে ধরনের বিচার বিভাগ গড়ে তোলা দরকার। এটি করতে পারলে বিএনপির বড় অর্জন হিসেবে প্রশংসিত হবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিচার বিভাগ দলটির একটি এক্সটেনশন ছিল বলা যায়। সে সময় বিচার বিভাগ মূলত আওয়ামী লীগের বর্ধিত শাখা ছিল। শেখ হাসিনার সরকার এটি তার অনুগত প্রতিষ্ঠান বানিয়েছিল। বিরোধীদের নিপীড়নের প্রধান হাতিয়ার ছিল বিচার বিভাগ। মিথ্যা মামলা, হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে নিষ্পেষিত করা হয়েছে। তবে বিএনপির সরকার গত ছয় মাসে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।
দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিএনপির সফলতা প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, গত ছয় থেকে সাত মাসের ট্র্যাক রেকর্ডে বিএনপিকে ‘এ প্লাস’ দেবো। তারা মানুষের অধিকারের ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। ভিন্ন মতের ক্ষেত্রে, বিরোধী বক্তব্যের জন্য, বিরোধী দলের মিছিল-মিটিং এর জন্য কোনো নিপীড়ন, নির্যাতন, বাধা দেওয়া এসব আমরা এখন আর দেখছি না।
তিনি বলেন, ‘সংসদে বিরোধী দল মন খুলে কথা বলছে। বিরোধী দলের লং মার্চ এ কোনো বাধা নেই। এদিক থেকে বিএনপি সরকারের উদ্যোগ অসাধারণ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এ সরকারের জন্য এটি বড় অর্জন হবে বলে মনে করি।’
তবে সমাজের প্রান্তিক মানুষ যেমন, দরিদ্র, নারী, পাহাড়ি, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে বৈষম্য আছে বলে মনে করেন এ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এ নেতা।
তিনি বলেন, কারণ তাদের কণ্ঠ এখনও উচ্চে পৌঁছায়নি। তবে মাত্র ছয় মাস পার করা সরকারের কাছে আমরা তো সবটাই প্রত্যাশা করতে পারি না। কিন্তু সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে উদ্যোগগুলো নিয়েছেন সেগুলো অবশ্যই ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস পালিত হয়। গণতন্ত্রের নীতি প্রচার, মূল্যায়ন ও সুসংহত করার উদ্দেশে ২০০৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এটি পালিত হয়ে আসছে।