টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। আগামী ছয় মাসে লাল বলের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত সূচি থাকলেও ২০২৭ সালের অ্যাশেজে খেলবেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন তিনি। বরং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখছেন স্মিথ।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। এর মধ্যে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হতে পারে টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশেষ ম্যাচ। এরপরই টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন স্মিথ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজে স্মিথের পারফরম্যান্স বরাবরই দুর্দান্ত। দেশটির মাটিতে ২৩ টেস্টে ৫৪.২৭ গড়ে ২ হাজার ৩৩৪ রান করেছেন তিনি। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে আটটি সেঞ্চুরি ও ১০টি হাফ সেঞ্চুরি। তবে ইংল্যান্ডের মাটিতে এখনো অ্যাশেজ সিরিজ জিততে পারেননি তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আগামী বছরের অ্যাশেজে খেলার নিশ্চয়তা দিতে পারেননি স্মিথ। তিনি বলেন, ‘আমি এখনও জানি না সেখানে থাকব কি না। আমি এখন বলা যায় সিরিজ ধরে ধরে খেলা একজন ক্রিকেটার, সম্প্রতি আমি যেমনটা করে আসছি। এই মুহূর্তে আমার জন্য সেটা এখনও অনেক দূরের ব্যাপার। জিততে পারলে (ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ) আমার ভালো লাগবে। কিন্তু দেখা যাক, সেটা বাস্তবে রূপ নেয় কি না।’
টেস্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার আরও কিছুদিন দীর্ঘ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন স্মিথ। তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য এখন ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা।
স্মিথ বলেন, ‘এই মুহূর্তে সম্ভবত অলিম্পিকে খেলতে পারা আমার লক্ষ্য। আমার এখনও মনে হয়, আরও কিছুদিন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলতে পারব। খেলা শেষ হওয়ার পর আমি কী করব? আমি জানি না। আশা করি খেলার জন্য আরও কিছু সময় পাব।’
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেননি স্মিথ। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে তাকে। বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে খেলেছেন তিনি। ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি লিগে স্টিভ ওয়াহর প্রতিষ্ঠিত আমস্টারডাম ফ্লেমসের হয়েও খেলছেন। এছাড়া মেজর লিগ ক্রিকেটে ওয়াশিংটন ফ্রিডম এবং পাকিস্তান সুপার লিগে শিয়ালকোট স্ট্যালিয়ন্সের হয়ে খেলেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও ফিরতে চান স্মিথ। তাই টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ার আরও কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাই এখন তার সামনে।