আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করার সময় সৌদি আরবের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ‘সিদর’ নামের ওই জাহাজে হামলায় ফিলিপাইনের দুই নাবিক নিহত হয়েছেন। এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সামরিক উত্তেজনা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জাহাজ কোম্পানি ‘বাহরি’র মালিকানাধীন সিদর নামের ট্যাংকারটি গত সোমবার রাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। সমুদ্রপথে নিরাপদ বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর জোর দিয়েছে রিয়াদ।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের সামরিক কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। সংকট নিরসনে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে দেশটি বলেছে, সংঘাতের পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে যাওয়া জরুরি।
সৌদি তেলবাহী এই জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার ও কুয়েত। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে কোনো পক্ষের ওপর চাপ তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিয়ম লঙ্ঘন করে এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দোহা হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটির যেকোনো পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে কাতার।
কুয়েতের পক্ষ থেকেও সমুদ্রে এ ধরনের সামরিক আগ্রাসন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা অবাধ নৌ চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছে কুয়েত।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। চলমান এই ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং কৌশলগত জলপথে দফায় দফায় হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এক ধরনের যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।