জাতীয় ডেস্ক
সাইবার হামলা, ড্রোন প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো উদীয়মান কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা বাড়াতেও বিশেষ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার আনীত এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়টি মাথায় রেখে সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের কৌশলগত তথ্য পরিকাঠামো এবং সামরিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশীয়ভাবে ড্রোন বা মনুষ্যবিহীন আকাশযান উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে গোয়েন্দা নজরদারি, উদ্ধার অভিযান এবং কৌশলগত কার্যক্রমে দেশের নিজস্ব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সুনীল অর্থনীতি এবং দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমুদ্রে নজরদারি ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা জোরদার করার বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামুদ্রিক জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও নীতিমালা রয়েছে বলেও সংসদে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। মহিলা আসন-১০-এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়ে থাকে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু দ্য সিভিল’ বিধানের আওতায় যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জাতীয় সংকট কিংবা ক্রান্তিকালে অসামরিক প্রশাসনকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করে থাকে সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়া দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮-এর ১২৯ ধারার বিধান অনুযায়ী প্রয়োজন সাপেক্ষে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা এবং আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে আইনগত কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়, যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত সামরিক শক্তির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এবং সমুদ্র নিরাপত্তার মতো নতুন ও জটিল ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করবে। ভূ-রাজনীতি এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে এ ধরনের দূরদর্শী পদক্ষেপ দীর্ঘ মেয়াদে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা।