রাজনীতি ডেস্ক
২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপটে গ্রেফতার এবং কারাবাসের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন তারেক রহমান। দীর্ঘ ৫৪৮ দিন কারাবাস ও নানামুখী আইনি লড়াই শেষে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তার এই যাত্রা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে।
সেনা সমর্থিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমল চলাকালীন ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ভোররাতে রাজধানী ঢাকার বাসা থেকে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে যৌথ বাহিনী আটক করে। এর পরই শুরু হয় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের ও আইনি প্রক্রিয়া। কারাবন্দি থাকাকালীন তাকে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময়ে কারাবন্দি অবস্থায় শারীরিক নির্যাতন এবং অসুস্থতার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ তোলে বিএনপি ও তার পরিবার। পরবর্তীতে অসুস্থাবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়ায় একে একে সকল মামলায় জামিন লাভ করার পর, ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কারামুক্ত হন। কারামুক্তির পরপরই উন্নত চিকিৎসার জন্য আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তাকে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক ও দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন। তার সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র কন্যা জাইমা রহমানও যুক্তরাজ্যে যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী রাজনৈতিক শূন্যতা এবং দলীয় পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের কারাবাস ও পরবর্তী নির্বাসিত জীবন বিএনপির রাজনীতিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। এই সময়ে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে তারেক রহমানের দলের দায়িত্ব গ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনে এই সময়কার ঘটনাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতি বছর ৩ সেপ্টেম্বর তারিখটি বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা ‘তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস’ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়ে থাকে। দলীয়ভাবে এই দিনটিতে বিভিন্ন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মৃতচারণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই দিবসের গুরুত্ব এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।