বিনোদন ডেস্ক
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিজীবন, গ্রেপ্তার পরবর্তী অভিজ্ঞতা, চলমান আইনি প্রক্রিয়া এবং শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশদ বক্তব্য প্রদান করেছেন। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর আইনি লড়াই এবং কারাবাসের দিনগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী। রাজধানীর একটি শুটিং ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, তল্লাশি প্রক্রিয়ার অনিয়ম এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি নিজের অবিচল আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া নানামুখী জল্পনা-কল্পনা এবং দেশের নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েও দিকনির্দেশনামূলক মন্তব্য করেন তিনি।
গ্রেপ্তারের সময়কার পরিস্থিতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরীমনি দাবি করেন, সে সময় যথাযথ আইনি অনুশাসন মানা হয়নি। তিনি জানান, যখন তাঁর বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়েছিল, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত পরোয়ানা কিংবা তল্লাশি চালানোর অনুমতিপত্র ছিল না। তৎকালীন পরিস্থিতিতে পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত বলে মনে হলেও তিনি কোনো তাৎক্ষণিক আইনি উত্তেজনায় না জড়িয়ে ধৈর্য ধারণ করাকেই শ্রেয় মনে করেছিলেন। দীর্ঘদিন চুপ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে এই অভিনেত্রী বলেন, সত্য কখনো চিরদিনের জন্য চাপা থাকে না এবং অপরাধ যেমন নিখুঁত হয় না, তেমনি সত্যও কোনো না কোনো সময় প্রকাশ্যে উদ্ভাসিত হয়।
বিগত কয়েক বছরের মানসিক ও সামাজিক চড়াই-উৎরাই পার হওয়ার পর বর্তমান অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পরীমনি জানান, দীর্ঘ সময়ের ধৈর্য ও সহনশীলতা তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। কোনো প্রকার প্রশাসনিক বা সামাজিক চাপ সৃষ্টি না করে তিনি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেছেন। আদালত ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তিনি জানান, যত দিনই লাগুক এবং যত বারই হাজিরা দিতে হোক না কেন, তিনি আদালতের নির্দেশ মেনে চলবেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, একদিন আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিচারক তাঁকে সম্পূর্ণরূপে নিরপরাধ ঘোষণা করবেন এবং তাঁর হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার হবে। মামলা সম্পর্কিত অনিশ্চয়তা ও চাপ কাটিয়ে উঠে বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে অনেক হালকা ও ভারমুক্ত অনুভব করছেন বলেও উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিজীবন ও পুনর্বার বিবাহ সংক্রান্ত গুঞ্জন প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন পরীমনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক চর্চা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভক্ত ও সাধারণ দর্শক তাঁকে মূলত একক অভিভাবক হিসেবে তাঁর সন্তানের সঙ্গেই দেখতে আগ্রহী। পরিবারের সদস্য বা নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে ছবি কিংবা তথ্য প্রকাশ করলেও তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রেখে কেবল অভিনয় ও সন্তানের লালন-পালনেই মনোনিবেশ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন তিনি।
বিনোদন জগতের কলাকুশলী এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরীমনি এক দায়িত্বশীল ও সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি কেবল বিনোদন অঙ্গন বা সমাজের কোনো বিশেষ শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। একজন চিত্রশিল্পী বা বিশিষ্ট ব্যক্তির যেমন নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তেমনি একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ কিংবা রিকশাচালকেরও সমান সুরক্ষার অধিকার রয়েছে। দেশে এমন একটি সামাজিক ও আইনি পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সব ধরনের হেনস্তা, হয়রানি এবং অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত হয়ে সম্মানের সঙ্গে বসবাস ও কাজ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বিতর্কিত একটি অভিযান ও আইনি মামলায় পরীমনিকে গ্রেপ্তার করা হলে তা সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হলেও তাঁর মামলাটি দেশের অন্যতম আলোচিত আইনি বিষয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় পর তাঁর এই সুনির্দিষ্ট বক্তব্য বিনোদন অঙ্গনসহ আইনি ও সামাজিক পরিমণ্ডলে নতুন এক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা এই অভিনেত্রী বর্তমানে তাঁর সন্তান ও পেশাগত কাজকে কেন্দ্র করেই আগামী দিনের পথচলা পুনর্নির্ধারণ করছেন।