বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে এবং বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে একটি সর্বাত্মক মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে নতুন রূপ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সুসজ্জিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানী বা মূল পর্যটন কেন্দ্রের বাইরে থাকা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সম্ভাবনাময় স্থানগুলোকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
পর্যটন প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ওপর আলোকপাত করে বলেন, কেবল নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা দেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঐতিহাসিক কেন্দ্রগুলোকে পর্যটনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বিশেষ করে ঝিনাইদহ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক এবং সাংস্কৃতিক স্থানগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহাত্মা লালন শাহের জন্মস্থান, কালজয়ী মরমী কবি পাগলা কানাইয়ের স্মৃতিধন্য স্থানসমূহ এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মল্লিকপুর বটবৃক্ষ এলাকাকে সরকার সমন্বিত পর্যটন অবকাঠামোর আওতায় নিয়ে আসবে। এসব স্থানকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার কাজ শিগগিরই শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা পরিবেশ সুরক্ষা ও বনায়নের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটন প্রসারে স্থানীয় পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর জোর দেন। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন আয়োজিত এই বৃক্ষরোপণ অভিযান ও মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মেলায় স্থানীয় বিভিন্ন নার্সারি থেকে বিরল ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শনী ও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটন এলাকাগুলোতেও সবুজায়ন প্রকল্প জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটন প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের মূল পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি যদি জেলা পর্যায়ের ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক রূপকে বাণিজ্যিকভাবে উপযোগী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে তা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব আয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান এবং ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারের মতো প্রধান কেন্দ্রগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্রগুলো গড়ে উঠলে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাত যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি বিদেশি পর্যটকদের কাছেও বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় রূপ তুলে ধরা সহজ হবে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সাম্প্রতিক মাস্টারপ্ল্যানটি যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক চিত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।