আইন আদালত ডেস্ক
আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করা। আইনি প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের জয়-পরাজয়ের চেয়ে একজন নাগরিক সঠিক বিচার পেলেন কি না, সেটাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। কোনো মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পরাজয় হলেও যদি বিচারপ্রার্থী সঠিক বিচার পান, তবে একজন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সেটিই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে আয়োজিত এক সুধী ও নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে পরিচালিত হতে পারে না। বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র বা ব্যক্তি—কে জয়ী হলো, তা মুখ্য নয়; বরং আদালতের সিদ্ধান্তে প্রকৃত সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা-ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।
রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী আইন কর্মকর্তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, বিচার ব্যবস্থা যখন একজন নাগরিককে তার প্রাপ্য ও সঠিক বিচার দিতে সক্ষম হয়, তখন রাষ্ট্রের প্রতিনিধির অখুশি হওয়ার কোনো কারণ থাকে না। বরং নিরপেক্ষ বিচারিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যদি কোনো সাধারণ নাগরিক প্রতিকার পান, তবে সমাজে আইনের শাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বেড়ে যায়। একটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান আইনি সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা।
আইনবিদদের মতে, বিচার বিভাগের ওপর জনগণের অনাস্থা তৈরি হলে পুরো প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের ভূমিকা হওয়া উচিত কেবলমাত্র মামলায় জয়লাভ করা নয়, বরং সত্য উন্মোচনে আদালতকে নিরপেক্ষ সহযোগিতা করা। অ্যাটর্নি জেনারেলের এই বক্তব্য বিচার বিভাগের স্বাতন্ত্র্য এবং নাগরিকদের আইনি অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রপক্ষের সদিচ্ছার প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফাইমা নাসরিনের আগমন উপলক্ষে কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফাইমা নাসরিন। তিনি তার বক্তব্যে কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় বিচারপ্রার্থী মানুষের আইনি সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ জেলা ও কোটচাঁদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা জোরদার করার দাবি জানান।