প্রবাস ডেস্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরে এসে ভিসাসংক্রান্ত জটিলতায় বিপাকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তায় একটি বিশেষ হটলাইন সেবা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ওই দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের জরুরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে আরব আমিরাতেও পৃথক একটি হটলাইন চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী প্রবাসীদের তালিকা তৈরি করে তাদের সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান সম্ভব হবে।
রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ—এই দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগ ও আলোচনার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের দুর্দশা লাঘবে এই কার্যকর সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
সভায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি শ্রমবাজার অক্ষুণ্ন রাখা, দেশের মর্যাদা রক্ষা এবং প্রবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিদ্যমান কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। বিশেষ করে যেসব দেশে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেসব দেশের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা বা বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় আইনি বিধিনিষেধ মেনে চলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির তাগিদ দেওয়া হয়।
এছাড়া বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করা হয়। বিভিন্ন দেশে গমনেচ্ছু বা কর্মরত প্রবাসী কর্মীদের মাধ্যমে ভুয়া ও জাল নথিপত্র (জাল কাগজপত্র) জমা দেওয়ার অনভিপ্রেত প্রবণতা রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে জাল নথিপত্র ব্যবহারের অপরাধে দেশে প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের আইনি বিধান রয়েছে। এখন থেকে দেশের অভ্যন্তরে বা বিদেশে যাচাই-বাছাইকালে যেখানেই জাল সনদ বা নথিপত্র শনাক্ত হবে, তাত্ক্ষণিকভাবে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। একইসঙ্গে এই অপকর্মের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের কঠোর আওতায় আনা হবে। আন্তর্জাতিক অংশীদার ও বিদেশি নিয়োগকারী দেশগুলোর আস্থা রক্ষায় প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে আরও কঠোর শাস্তির বিধান সংযোজনের পরিকল্পনাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপগুলোর ফলে আমিরাতপ্রবাসীসহ ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকরা দ্রুত সেবা পাবেন এবং দেশের শ্রমবাজার সুরক্ষিত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।