আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইতালি জাতীয় ফুটবল দল এবং এসি মিলানের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফ্রাঙ্কো বারেসি ৬৬ বছর বয়সে পরলোকগমন করেছেন। ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী প্রচ্ছদপট বা রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত এই ফুটবলারের প্রয়াণে পুরো ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইতালি এবং এসি মিলান ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই বারেসি ছিলেন সাফল্যের প্রতীক। ইতালির হয়ে ১৯৮২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে রক্ষণভাগ সামলানোর এক নতুন ও আধুনিক ধারা উদ্ভাবন করে তিনি ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়েন। দেশের জার্সি গায়ে সাফল্যের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও ছিল তাঁর অনন্য আধিপত্য। দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারের পুরোটাই তিনি কাটিয়েছেন ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এসি মিলানে। দলটির হয়ে তিনি ছয়টি সেরি ‘আ’ খেতাব অর্জন করেন এবং ক্লাবকে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় একাধিকবার সাফল্যের শিখরে নিয়ে যান।
এসি মিলান কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক সংবাদ বিবৃতিতে তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করে, ফ্রাঙ্কো বারেসি ছিলেন এসি মিলানের প্রাণপ্রদীপ ও পথপ্রদর্শক। তাঁর এই বিয়োগান্ত বিদায় মিলান পরিবার এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তাঁর রেখে যাওয়া গৌরবোজ্জ্বল অবদান এবং স্মৃতি ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।
বিবৃতিতে আরও জানা যায়, সান সিরো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী আয়োজনে শেষবারের মতো জনসমক্ষে উপস্থিত হয়েছিলেন বারেসি। ওই বর্ণাঢ্য ইভেন্টটি সফল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তিনি ইতালির ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বারেসির প্রয়াণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়াতে দেখা যায়। সে সময় এসি মিলানের পক্ষ থেকে ভুয়া খবর এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে এই ফুটবল কিংবদন্তি বিদায় গ্রহণ করেন।
ফ্রাঙ্কো বারেসির প্রয়াণ আধুনিক বিশ্ব ফুটবলের একটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল। খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর নেতৃত্বগুণ, নিখুঁত টাইমিং এবং ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান বিশ্বের তরুণ ডিফেন্ডারদের জন্য চিরকাল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে তাঁর স্মরণে বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াবিদ, বিভিন্ন ক্লাব ও সমর্থকেরা গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।