আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত একজন নাবিক নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ইরানের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের “অযৌক্তিক, বৈরী ও অন্যায় আচরণ” হিসেবে আখ্যায়িত করে কঠোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে তীব্র সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলা জাতিসংঘের সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ ও তাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই এ ধরনের অভিযানের দায় পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে, যা তেহরানের বিরুদ্ধে কিয়েভের ধারাবাহিক বৈরী নীতিরই প্রমাণ। তেহরান এই হামলার জন্য সরাসরি ইউক্রেন সরকারকে দায়ী করে বিশ্ব সম্প্রদায়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা সরবরাহকারী এবং দ্বিমুখী বাণিজ্যিক রুটে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। কাস্পিয়ান সাগরে সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত অবকাঠামোতে হামলা চালানোর বিষয়টি ইউক্রেনীয় বাহিনী নিশ্চিত করলেও নির্দিষ্ট বাণিজ্য জাহাজে প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে কোনো প্রত্যক্ষ মন্তব্য করেনি। তা সত্ত্বেও তেহরান জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে এর জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সাথে ইরানের সামরিক সংযোগ ও কাস্পিয়ান সাগরীয় বাণিজ্য পথ লক্ষ্য করে ইউক্রেনের এই আঘাত দু’দেশের মধ্যকার কূটনীতিকে চরম সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দক্ষিণ উপকূলীয় বাণিজ্যিক অবরোধের মুখে কাস্পিয়ান সাগরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ইরানের জন্য এই উত্তরীয় বাণিজ্যিক রুটটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কাস্পিয়ান সাগরে এই ধরনের সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বহুমাত্রিক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।