খেলাধূলা ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে মিসর। বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩–১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপ খেললেও কোনো ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি। গ্রুপ পর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয় মোহাম্মদ সালাহর দল।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মিসরের জন্য অনুকূলে ছিল না। খেলা শুরুর মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় ফিন সারম্যানের গোলে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে রক্ষণভাগ নিপুণভাবে সামলে লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয় ওশেনিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধিরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে মিসর। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে মাত্র ২৪ মিনিটের ব্যবধানে তিন-তিনটি গোল করে ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় তারা।
মিসরের পক্ষে সমতাসূচক প্রথম গোলটি আসে ৫৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর পা থেকে। এই গোলের পর নিউজিল্যান্ডের রক্ষণভাগের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে মিসরীয় ফরোয়ার্ডরা। ফলশ্রুতিতে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দলের তারকা অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ গোল করে মিসরকে ব্যবধানে এগিয়ে নেন। এরপর ম্যাচের ৮২ মিনিটে ত্রেজেগে নিউজিল্যান্ডের জালে বল পাঠালে মিসরের ৩–১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয়।
ঐতিহাসিক এই জয়ের ফলে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো করল মিসর। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে ১–১ গোলে রুখে দিয়ে চমক দেখিয়েছিল তারা। অন্যদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরানের সাথে ২–২ গোলে ড্র করা নিউজিল্যান্ড এই হারের ফলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছে।
ফুটবল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিসর এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ করেছিল। তবে আগের তিন আসরে মোট ৮টি ম্যাচ খেলেও কোনো জয়ের দেখা পায়নি তারা। আজ নিজেদের নবম ম্যাচে এসে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই অধরা জয়ের স্বাদ পেল الفراعنة বা ফারাওরা। এই জয় মিসরের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।