খেলাধূলা ডেস্ক
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস শহরে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের কটন বোল স্টেডিয়ামের পরিবর্তে এবার ভেন্যু টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। অতীত ইতিহাস ও আবেগের চেয়ে বর্তমান দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির কাছে এখন মাঠের রণকৌশল এবং পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জনই মূল লক্ষ্য।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হয়ে ডালাসের মাটিতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে। ফিফার নিষেধাজ্ঞার পর ম্যারাডোনার সেই বিদায় আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসে একটি গভীর ক্ষত হিসেবে থেকে গেছে। বর্তমান ২৬ সদস্যের আর্জেন্টিনা স্কোয়াডের মাত্র ছয়জন খেলোয়াড়ের জন্ম হয়েছিল সেই ঘটনার আগে। দীর্ঘ সময় পার হলেও সমর্থকদের মনে সেই বিষাদময় স্মৃতি এখনো অমলিন, যা এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে গ্যালারির আবেগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে মাঠের লড়াইয়ে অতীত স্মৃতির চেয়ে প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়াকে নিয়েই বেশি ভাবছে আর্জেন্টিনা শিবির। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে অস্ট্রিয়াও তাদের প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে। ফলে দুই দলের এই লড়াইটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিয়মিত একাদশ পরিবর্তন করার জন্য পরিচিত লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনার ডাগআউটে তার ৯৭ ম্যাচের দীর্ঘ পথচলায় মাত্র তিনবার তিনি আগের ম্যাচের একাদশ অপরিবর্তিত রেখেছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও এই কৌশলের ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা বিবেচনা করে স্কালোনি তার রণকৌশল সাজাচ্ছেন, যেখানে আলজেরিয়া ম্যাচের একাদশে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ পাবলো আইমার প্রতিপক্ষ সম্পর্কে দলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তার মতে, রালফ রাংনিকের অধীনে অস্ট্রিয়া দল শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী, সুসংগঠিত এবং প্রতিপক্ষকে উচ্চ চাপে (হাই প্রেসিং) রাখার ক্ষেত্রে পারদর্শী। বিশেষ করে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে অস্ট্রিয়ার প্রেসিং ফুটবল ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। তারা মূলত প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণভাগের বিল্ড-আপ নষ্ট করতে পছন্দ করে এবং গোলরক্ষকসহ ডিফেন্ডারদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। আর্জেন্টিনার পাসিং ফুটবল ঘরানার জন্য অস্ট্রিয়ার এই হাই-প্রেসিং কৌশল একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান, দলগত অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে অবশ্য আর্জেন্টিনাই এগিয়ে থাকছে। আলবিসেলেস্তেরা বর্তমানে টানা আটটি ম্যাচে জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে সাতটি ম্যাচেই তারা কোনো গোল হজম করেনি। এছাড়া শেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই তারা অন্তত তিনটি করে গোল করে নিজেদের আক্রমণভাগের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। অপরদিকে অস্ট্রিয়ার আক্রমণভাগও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। আর্জেন্টিনা যেখানে নিখুঁত পাসিং ও বল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খেলা পরিচালনা করতে পছন্দ করে, সেখানে অস্ট্রিয়া চাইবে শারীরিক ফুটবল এবং অনবরত প্রেসিংয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার সেই ছন্দ ব্যাহত করতে। গ্রুপ পর্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দুই দলের কৌশলগত লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।