বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত প্রয়াত রাষ্ট্রপতির সমাধিতে তিনি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় নেতৃবৃন্দ সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও জিয়ারত সম্পন্ন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের টি অ্যান্ড টি খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেখানে দিবসটি উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
ঐতিহাসিকভাবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এরপর থেকে প্রতি বছর এই দিনটিকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো শাহাদাতবার্ষিকী হিসেবে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করে আসছে। দিনটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি না থাকলেও দলীয়ভাবে ঢাকা শহরসহ দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। রাজধানীসহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে সকাল থেকেই কালো পতাকা উত্তোলন এবং দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর এই কর্মসূচি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের একটি অন্যতম মাধ্যম। প্রতি বছরই এই দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়। বিশেষ করে ঢাকার কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণ এবং দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
আজ সকাল থেকেই রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুনসহ শেরেবাংলা নগরের চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। সমাধি প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। সমাধি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত এলাকায় নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুধু ঢাকাতেই নয়, সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল এবং কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্পটে এই খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। দলটির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠন, যেমন—যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল পৃথক পৃথকভাবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে।