সারাদেশ ডেস্ক
দেশের পাহাড় ও সমতল অঞ্চলের মানুষের মাঝে কোনো ধরনের বৈষম্য না রেখে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের নাগরিকদের সমঅধিকার ও উন্নয়ন সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বাহাদুরপুর চা বাগান এলাকায় এক পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি স্থানীয় নানা সমস্যা ও সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় খাসিয়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাদের দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং আশ্বস্ত করে বলেন, খাসিয়া সম্প্রদায়ের ভূমি জটিলতার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করা হবে। টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় মন্ত্রী মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকার এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করছে। অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তি যেকোনো প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোক না কেন, তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীকে কেবল অপরাধী হিসেবেই বিচার করা হবে। এ সময় তিনি এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাদকের বিস্তার রোধে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
দেশের পর্যটন খাতের সামগ্রিক বিকাশ নিয়ে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে দীপেন দেওয়ান বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট ট্যুরিজম বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ডে তাকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে এ খাতের আধুনিকায়নে নানামুখী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে এক নতুন গতিশীলতা আসবে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এবং পর্যটনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। এই বিপুল সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। সফরকালে তিনি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন। একই সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, পর্যটন কেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং দর্শনার্থীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্ত্রীর এই মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন তার একান্ত সচিব রবীন্দ্র চাকমা, বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম এবং বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।