নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদক ও মৌলবাদের করাল গ্রাস থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই দুই অপশক্তি যেন কোনোভাবেই সমাজের অগ্রগতি ও শান্তি বিনষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
শুক্রবার (২৯ মে) ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়া দুঃখী মাহমুদ ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী উপস্থিত তরুণ প্রজন্ম ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সমাজ সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।
আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় একটি বিশেষ মহলের নেতিবাচক তৎপরতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, শৈলকুপার এই অঞ্চলে একটি অপশক্তি ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে এবং ‘বেহেশতের টিকিট বিক্রি’র মতো বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ধরনের অপতৎপরতা রুখতে সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, মৌলবাদ ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে তরুণ সমাজকেই মূল সারথি বা চালিকাশক্তি হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, স্থানীয় বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হোসেন তোজাম এবং ত্রিবেণী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাবদার হোসেন মোল্লা। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানিক এই আয়োজনে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি দলমত নির্বিশেষে সামাজিক ঐক্য গড়ার বার্তা দেয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অনুষ্ঠানে কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক, গভর্নিং বডির সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সান্নিধ্যে এসে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে উৎসবমুখর এই আবহের মধ্যেও মন্ত্রী সামাজিক অবক্ষয় রোধে যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তা স্থানীয় সচেতন মহলে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মফস্বল অঞ্চলগুলোতে মাদকের বিস্তার এবং ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে তরুণদের বিভ্রান্ত করার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনমন্ত্রীর এই দূরদর্শী বক্তব্য কেবল শৈলকুপা অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং দেশব্যাপী গ্রামীণ জনপদে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে যদি এই ধরনের সামাজিক সচেতনতা মূলক কার্যক্রম জোরদার করা যায়, তবে মাদক ও মৌলবাদী তৎপরতা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সুধী সমাজ।