সারাদেশ ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় আকস্মিক বজ্রপাতে একটি কোরবানির গরু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে যৌথভাবে কোরবানির উদ্দেশ্যে গরুটি কেনা হয়েছিল। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে ২ লাখ টাকা মূল্যের গবাদিপশুটি মারা যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা ওমর বলী ও তার আত্মীয়-স্বজনসহ মোট সাতজন অংশীদার মিলে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানি দেওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা দিয়ে গরুটি ক্রয় করেছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি এবং সেই সাথে তীব্র বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় গরুটি ওমর বলীর বাড়ির গোয়ালঘরে বাঁধা ছিল। বিকট শব্দে একটি বজ্রপাত গোয়ালঘরের ওপর বা তার কাছাকাছি পতিত হলে ঘটনাস্থলেই গরুটি মারা যায়।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কেটে যাওয়ার পর মৃত গরুটি রশি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে বাড়ির পাশে একটি গর্তে মাটিচাপা দেওয়া হয়। গবাদিপশুটিকে মাটিচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও চিত্র পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর পেয়ে আশেপাশের গ্রাম থেকে বহু মানুষ ওমর বলীর বাড়িতে এসে ভিড় জমান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
গবাদিপশুর মালিক ও কোরবানির অংশীদার ওমর বলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিকেলে আকস্মিক বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে গোয়ালঘরে থাকা গরুটি মারা যায়। আসন্ন ঈদের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই ধরনের আকস্মিক ঘটনায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অংশীদারদের অনেকে জানিয়েছেন, মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের এই পরিবারগুলোর জন্য ঈদের আগে নতুন করে আবার মোটা অঙ্কের টাকা জোগাড় করে আরেকটি গরু কেনা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও চড়া আর্থিক বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানান, গ্রামীণ অর্থনীতিতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে অনেকেই দীর্ঘদিনের জমানো সঞ্চয় দিয়ে পশু কেনেন। এই অবস্থায় বজ্রপাতের মতো আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২ লাখ টাকার সম্পদ একনিমেষে হারিয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর জন্য বড় ধাক্কা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশীদাররা ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কোরবানি সম্পন্ন করার জন্য নতুন করে বিকল্প উপায়ে পশু ক্রয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুম ও ঈদের আগে বজ্রপাতে গবাদিপশু ও মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আবহাওয়াবিদ ও স্থানীয় প্রশাসন প্রায়শই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তবে অনেক সময়ই সচেতনতার অভাব কিংবা আকস্মিকতার কারণে এমন ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয় না।