সারাদেশ ডেস্ক
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অভ্যন্তরে অবস্থিত সেন্ট্রাল মসজিদের সামনের দিঘি থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নিখোঁজ থাকার কয়েক ঘণ্টা পর তাদের মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহত দুই শিশু সম্পর্কে খালাতো ভাই এবং তারা দুপুরে দিঘিতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছিল বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশুরা হলো মো. আরাফাত মল্লিক ও মো. আকাশ। এদের মধ্যে আরাফাত মল্লিক বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চৈতা রঘুনাথপুর এলাকার বিপ্লব মল্লিকের ছেলে। সে ঢাকার একটি মাদরাসায় অধ্যয়নরত ছিল এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে মায়ের সাথে বরিশালে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। অন্য শিশু আকাশ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা মো. বেল্লালের ছেলে। সে তার পরিবারের সাথে বরিশাল নগরের বান্দরোডের চরের বাড়ি এলাকায় বসবাস করত এবং স্থানীয় ভাটারখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে দুই শিশু বাসা থেকে বের হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তারা ঘরে না ফেরায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, দুপুরে শিশু দুটি শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের দিঘির ঘাটলায় গোসল করতে এসেছিল। সাঁতার না জানার কারণে কোনো একসময় তারা দিঘির গভীর পানিতে তলিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিশুদের নিখোঁজের বিষয়টি বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর ডুবুরি শাহিনের নেতৃত্বে দিঘির তলদেশে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টার নিবিড় তল্লাশি শেষে রাত ১০টার দিকে দিঘি থেকে দুই শিশুর অচেতন দেহ উদ্ধার করে ওপরে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। দিঘির ঘাটলার কাছাকাছি গভীর পানি থেকে শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি রাতেই তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকা এবং শিশুদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশাল আয়তনের এই দিঘিটিতে প্রায়শই দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ ও শিশুরা গোসল করতে নামে। তবে গভীরতা বেশি হওয়ায় এবং সুরক্ষামূলক পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অসচেতনতার কারণে অতীতেও এখানে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে সাঁতার না জানা শিশুদের ক্ষেত্রে এই জলাশয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে দিঘির চারপাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।