জেলা প্রতিনিধি
মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে রংপুর মহানগরীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত এক মাসে ৪৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আরএমপির এই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরএমপি কমিশনার জানান, গত এক মাসে রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি ছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত এবং ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি রয়েছে। পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাসব্যাপী পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ১১০ জন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি এবং বিভিন্ন অপরাধের দায়ে অন্য মামলার ২৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক কেনাবেচা ও চোরাচালানের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আরও ৮৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অভিযানকালে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের একটি বিবরণ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। আরএমপির বিভিন্ন থানার অভিযানে মোট ৮ কেজি গাঁজা, ১ হাজার ৪৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮৮ বোতল ফেনসিডিল, ৩ দশমিক ২ গ্রাম হেরোইন, ২৫টি ওয়ানিল বা মর্ফিন ইনজেকশন এবং ৩১ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য লাখ টাকারও ওপরে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, মহানগরীকে অপরাধমুক্ত এবং মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে জেলা পুলিশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অপরাধী বা মাদক কারবারির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আপস নেই। অপরাধ দমনে পুলিশের এই বিশেষ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশ কমিশনার সাধারণ নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যানজট নিরসন এবং কিশোর গ্যাং বা ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে আরএমপির গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এর ফলে রংপুর মহানগরীর নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন ঊর্ধ্বতন এই পুলিশ কর্মকর্তা।