বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, চলমান অবকাঠামো প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এডিবির অব্যাহত সহযোগিতা এবং নতুন সহায়তার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলো প্রতিনিধি দলের সামনে তুলে ধরেন। বিশেষ করে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদারকরণে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এডিবির মতো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ শর্তের অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জবাবে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে। বিশেষ করে আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতের আধুনিকায়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে এডিবির চলমান ও ভবিষ্যৎ ঋণ সহায়তা কর্মসূচি আরও বেগবান করার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতের মতো বড় প্রকল্পগুলোতে এডিবির বিনিয়োগের অগ্রগতি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ পর্যালোচনা হয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জের মুখে এডিবির শীর্ষ পর্যায়ের এই সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ বর্তমানে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) গ্র্যাজুয়েশনের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি অত্যন্ত জরুরি। এই পরিস্থিতিতে এডিবির প্রেসিডেন্টের সাথে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠক দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নতুন বিদেশি বিনিয়োগের পথ সুগম করবে।
উল্লেখ্য, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্যতম বড় অর্থায়নকারী সংস্থা। বিদ্যুৎ, পরিবহন, শিক্ষা, পানি সরবরাহ এবং কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে সংস্থাটি নিয়মিত ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ফলে দুই পক্ষের মধ্যবর্তী সম্পর্ক আরও জোরালো হবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এডিবির উন্নয়ন সহায়তার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।