সারাদেশ ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (যমুনা) সেতুতে গত ২৪ ঘণ্টায় যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। শনিবার (২৩ মে) সকাল ৬টা থেকে রবিবার (২৪ মে) সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৩২ হাজার ৬৪৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ২ হাজার ৩১৭টি কম। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, আজ দুপুরের পর থেকে মহাসড়কে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখী মানুষের এবং পশুবাহী যানবাহনের চাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত (টাঙ্গাইল অংশ) দিয়ে ১৬ হাজার ৭৫৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এসব যানবাহন থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ১৫০ টাকা। অন্যদিকে, সেতুর পশ্চিম প্রান্ত (সিরাজগঞ্জ অংশ) দিয়ে মোট ১৫ হাজার ৮৯৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই প্রান্ত থেকে টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ টাকা। উভয় প্রান্ত মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে মোট ২ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা টোল সংগৃহীত হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে রেকর্ড ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। ওই সময়ে মোট টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ Dust ৪০০ টাকা। সেই তুলনায় গত এক দিনে যানবাহন পারাপার কমেছে ২ হাজার ৩১৭টি এবং টোল আদায়ের পরিমাণ কমেছে ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা। মূলত ঈদের ছুটির শুরুর দিকে যানবাহনের যে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা শনিবার কিছুটা শিথিল হওয়ায় এই সংখ্যাত্মক হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন এই বিষয়ে জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সেতু প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেতুর উভয় প্রান্তে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহাসড়কে যেন কোনো ধরনের যানজট বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও তদারকি অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যমুনা সেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগস্থল। রাজধানী ঢাকা ও দেশের পূর্বাঞ্চলের সাথে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২২টি জেলার সড়ক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই সেতু। প্রতি বছরই ঈদ ও প্রধান প্রধান উৎসবগুলোতে এই মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ দুপুরের পর থেকে পোশাক কারখানা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হওয়ার কারণে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস এবং কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপ একযোগে বাড়তে পারে। এই সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনসহ বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।