নিজস্ব প্রতিবেদক
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন বলেছেন, বর্তমান সরকার অবাস্তব পন্থায় কিংবা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করতে চায় না। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকার আগামীতেও যেন জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ফিরে আসতে পারে, সেই লক্ষ্যেই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়ানোর পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারের উন্নয়ন ও সেবামূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এই মেলার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, এ দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। সেবাগ্রহীতারা যখন সরকারি দপ্তরে আসবেন, তখন তারা যেন আন্তরিক ও সম্মানজনক পরিবেশ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল লক্ষ্য হতে হবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণকে সঠিক সেবা প্রদান করা।
ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সকল স্তরের দপ্তরে দুর্নীতি ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি ও জটিলতা ছাড়াই নির্বিঘ্নে জমি সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা পেতে পারেন, সে জন্য ডিজিটালাইজেশনসহ কাঠামোগত সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।
বক্তারা বলেন, ভূমিসেবা মেলা আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার যে প্রয়াস নেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোতে হয়রানি বন্ধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন চিত্র আরও দৃশ্যমান হবে। তিন দিনব্যাপী এই মেলায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলের নাগরিকদের স্পট খতিয়ান প্রদান, ই-নামজারি আবেদন গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি পরামর্শ প্রদান করা হয়।